ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দুই স্ত্রীর তীব্র তর্কাতর্কি ও একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতির মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়েছেন মিসর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। সম্প্রতি মিসরের উত্তর উপকূলের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট হোটেলের ক্যাফেতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই অপ্রীতিকর ঘটনার পরপরই তার প্রথম স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়ির সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টেনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দিয়েছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ।
মিসরীয় কোচের দ্বিতীয় স্ত্রী দিনা মোস্তফার (যিনি ড্যান অ্যাডাম নামে পরিচিত) আইনজীবী মোহাম্মদ শামস আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচ্ছেদের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে হোয়াইদার সঙ্গে হোসামের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের চূড়ান্ত অবসান ঘটল। এই দম্পতির সংসারে আয়া, রুয়া ও ওমর নামে তিন সন্তান রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালেও তাদের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটেছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান হলেও এবার ক্যাফের সংঘাতের জেরে তা স্থায়ী বিচ্ছেদে রূপ নিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের ক্যাফেতে দুই স্ত্রী মুখোমুখি হলে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা মারাত্মক হাতাহাতি ও সংঘাতের দিকে গড়ায়, যার ফলে উভয়পক্ষের সদস্যরা শরীরে কালশিটে দাগসহ নানা আঘাত পান। ক্যাফের অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হলে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। চোখের সামনে এমন তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া চরম হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে তীব্র মানসিক চাপে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন মিসরীয় কোচ।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মিসরের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন হোসাম। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে প্রথম স্ত্রী হোয়াইদার সঙ্গে সংসার বহাল থাকা অবস্থাতেই দিনা মোস্তফাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন হোসাম হাসান।