ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অজিদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও মাঠ দাপাচ্ছেন টাইগার ব্যাটাররা। বল ও ব্যাট—দুই বিভাগেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা অনন্য আধিপত্য বজায় রেখে পাহাড়সম লিডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে ডারউইনের মাঠে দেখা যায় এক বিরল দৃশ্য। বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের পরাস্ত করতে পেসারদের দিয়ে শর্ট বলের অনবরত আক্রমণ ও কড়া বডিলাইন ফিল্ডিং ফাঁদ সাজিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই ইনিংসের ১২৬তম ওভারে বাউন্ডারি লাইনে ডিপ ফাইন লেগ, স্কয়ার ফাইন লেগ এবং ডিপ স্কয়ার লেগে ফিল্ডার বসায় স্বাগতিক দল। কিন্তু বডিলাইন ফিল্ডিংয়ের এই বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসে ক্যাঙ্গারু শিবির।
মিচেল স্টার্কের বল করার সময়ে ফিল্ডার মারনাস লাবুশেন স্কয়ার লেগের কিছুটা পেছনে গিয়ে অবস্থান নেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘বডিলাইন বোলিং’ সংক্রান্ত আইন অনুসারে, অনসাইডে অর্থাৎ লেগ সাইডে স্কয়ারের পেছনে সর্বোচ্চ দুইজন ফিল্ডার রাখার নিয়ম রয়েছে। এই আইন লঙ্ঘিত হতেই অন-ফিল্ড আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গেই নো বলের সংকেত দেন। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিকেট ডটকম ডটএইউ’ তাদের ম্যাচ বিশ্লেষণে স্বাগতিকদের এই কৌশলগত ভুল এবং ফিল্ডিংয়ের চরম দূরদর্শিতার অভাবকে তুলে ধরেছে।
আইন ভঙ্গের কারণে স্টার্ককে ওভারের অতিরিক্ত বলটি করতে হয়, যা অজিদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগান মেহেদী হাসান মিরাজ। অজিদের সাজানো ফাঁদ সামলে চমৎকার ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ১১৭ বলে তুলে নেন নিজের অনবদ্য ফিফটি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার পাতা ফাঁদ তাদের জন্যই হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায় এবং ম্যাচটিতে বাংলাদেশ নিজেদের চালকের আসন আরও মজবুত করে নেয়।