Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই,২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড

ছবি: এ আই প্রণীত

বিশ্বফুটবলের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও ঐতিহাসিক দ্বৈরথ আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ রাতের মহাযুদ্ধ শুরুর আগেই মাঠের বাইরে জমে উঠেছে কথার লড়াই। একদিকে আলবিসেলেস্তেদের পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক চাল, অন্যদিকে থ্রি-লায়ন্স শিবিরের অভ্যন্তরীণ রসায়ন—সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইটি রূপ নিয়েছে এক জমজমাট যুদ্ধক্ষেত্রে।

ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই প্রথম চালটি চেলে রাখল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফিফার বিশেষ অনুমতি নিয়ে এবার নিজেদের চেনা আকাশী-সাদা হোম কিটের বদলে গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে কিট পরে খেলতে নামছে লিওনেল স্কালোনির দল। ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখা যায়, এই নীল জার্সি আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক দারুণ ‘লাকি চার্ম’ বা পয়মন্ত পোশাক।

  • ঐতিহাসিক সমীকরণ: ১৯৮৬ এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে যখনই তারা এই নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে, জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে।
  • ম্যাজিক মুহূর্ত: ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই প্রয়াত কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা উপহার দিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।
  • হোম কিটের ব্যর্থতা: বিপরীতে ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে নিজেদের নিয়মিত হোম জার্সি পরে খেলতে নেমে ইংলিশদের কাছে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।


ইতিহাস আর আবেগের এই মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ মাথায় রেখেই মূলত নীল জার্সির শরণাপন্ন হওয়া। অন্যদিকে, টমাস টুখেলের শিষ্যরা প্রথা মেনে মাঠে নামবে তাদের ঐতিহ্যবাহী অল-হোয়াইট বা সম্পূর্ণ সাদা কিটে।

ম্যাচের উত্তাপের সঙ্গে সঙ্গে ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ইংল্যান্ড শিবিরে প্রধান কোচ টমাস টুখেল এবং তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমন একটি মুখরোচক খবর বেশ কিছু দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে সেই গুঞ্জনকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন থ্রি-লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেইন দলের ইস্পাতকঠিন একতার কথা উল্লেখ করে বলেন:

"ম্যাচ শেষের চরম উত্তেজনার মুহূর্তে জুডকে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল, যা নিয়ে তিলকে তাল করা হচ্ছে। আমাদের দলে কোনো ফাটল নেই। আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। বড় টুর্নামেন্ট এলেই ইংল্যান্ড দলকে ঘিরে নেতিবাচক খবর ছড়ানো সংবাদমাধ্যমের পুরনো অভ্যাস। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবাই এখন এক সুতোয় বাঁধা। আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিকে হারাতে আমাদের এই দলগত সংহতিই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হবে।"

এদিকে, নিজের ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে আরও একটি সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে দেখার স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই কিংবদন্তি নিজের আবেগ ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। মেসির মতে:

"ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই মানেই বিশেষ কিছু। তাদের দলে এমন কিছু ম্যাচ উইনার আছে যারা এক নিমেষেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে ইতিহাস বা জার্সির রঙের চেয়ে আমাদের পুরো মনোযোগ মাঠের ৯০ মিনিটের ওপর। আমরা জানি কোটি কোটি ভক্ত আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমরা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত মাথায় সেরা ফুটবলটাই খেলতে চাই, যেন আরও একবার বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে দেশের পতাকা ওড়াতে পারি।"

মাঠের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত দুই ডাগআউটের দুই মাস্টারমাইন্ড। প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ সমীহ জানিয়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ টমাস টুখেল সংবাদ সম্মেলনে নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেন:

"আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বড় ম্যাচ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা তারা খুব ভালো করেই জানে। বিশেষ করে মেসি যেকোনো মুহূর্তে জাদুকরী কিছু করে ফেলতে পারেন। তবে আমার ছেলেদের ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে।"

অন্যদিকে, অতীতের সমীকরণ বা জার্সির কুসংস্কারের চেয়ে মাঠের ফুটবলেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার ডিরেক্টর লিওনেল স্কালোনি। প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন:

"জার্সির রঙ বা ইতিহাস আমাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে পারে, কিন্তু ম্যাচ জেতাবে না। ইংল্যান্ড দলে হ্যারি কেইন বা বেলিংহ্যামের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা আছেন। আমাদের লক্ষ্য একটাই—নিখুঁত ফুটবল খেলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করা।"

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই শুধু ২২ জন খেলোয়াড়ের পায়ের লড়াই নয়, এর পেছনে মিশে আছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক আবেগও। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর থেকে এই দুই দলের মাঠের লড়াই রূপ নিয়েছে জাতীয় মর্যাদার যুদ্ধে। ম্যারাডোনা নিজেই একদা লিখেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক পাক্ষিক ফুটবলীয় প্রতিশোধ। যুগ পার হয়ে গেলেও মাঠের সেই চেনা ঐতিহাসিক উত্তেজনা আবারো কড়া নাড়ছে।

এর সাথে যোগ হয়েছে বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিদায়ের আবেগ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সরাসরি সাক্ষী হতে টিকিট নিয়ে চলছে নজিরবিহীন হাহাকার।

  • সাধারণ টিকিট: অফিশিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সাধারণ ‘ক্যাটাগরি ৩’ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ঠেকেছে আকাশচুম্বী ২ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ লাখ টাকা)।
  • ভিআইপি টিকিট: আর ভিআইপি বা সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিট কিনতে ফুটবলপ্রেমীদের পকেট থেকে খসাতে হচ্ছে অবিশ্বাস্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার!

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। শেষ ষোলোতে মিশর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড—উভয় দলই আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ফলে এই হাইপ্রোফাইল ম্যাচের রেফারি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ ছিল না।

ফিফা এই গুরুদায়িত্ব সঁপেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমায়েল এলফাতের কাঁধে। ৪৪ বছর বয়সী এলফাত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে সহকারী রেফারি হিসেবে তাকে সহযোগিতা করবেন কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস।

মাঠ ও মাঠের বাইরের সব নাটকীয়তা শেষে এবার কেবল রেফারির প্রথম বাঁশি বাজার অপেক্ষা। মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ রাতে কার মাথায় উঠবে বিজয়ের মুকুট, তা দেখতে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে গোটা ফুটবলবিশ্ব।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)