ফাহিম ফারহাদ
ফ্লোরেন্স পার্নেটের তোলা টেলিভিশন পর্দায় অলিসের ছবি, নিজের ইন্সটাগ্রামে এই ছবি পোস্ট করেছেন অলিসে। ছবি: মাইকেল অলিসে/ইন্সটাগ্রাম
দিনকয়েক আগে মাইকেল অলিসে তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সব ছবি মুছে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ফুটবল পাড়ায় শোরগোল পড়ে যায়। বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে অলিসে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিচ্ছেন—এমন জোরালো গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে। অনেকেই ভেবেছিলেন, দলবদলের ইঙ্গিত দিতেই হয়তো তার এই পদক্ষেপ।
তবে পর্দার পেছনের আসল সত্যটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনুকরণীয়।
অলিসের অফিসিয়াল ছবিগুলো তোলার দায়িত্বে থাকেন তার ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার ফ্লোরেন্স পার্নেট। অলিসের ফুটবল ক্যারিয়ারের ছায়াসঙ্গী হিসেবে তিনি সব ম্যাচেই উপস্থিত থাকেন এবং তার ক্যামেরায় বন্দি হওয়া বিশেষ ছবিগুলোই অলিস তার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন।
কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বকাপ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতার কারণে ফ্লোরেন্স সেখানে প্রবেশাধিকার পাননি। ফলে অলিসের ম্যাচগুলোর পেশাদার ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার।
সহকর্মীর এই বিপদে অলিসে যে সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এক কথায় অনন্য। ফ্লোরেন্সের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্টে শত শত বিশ্বমানের প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা অলিসের দারুণ সব হাই-কোয়ালিটি ছবি তুলছিলেন। কিন্তু অলিসে সেগুলোর একটিও ব্যবহার করেননি।
ফ্লোরেন্সের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি তার প্রোফাইলের আগের সব পোস্ট ডিলিট করে দেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার প্রোফাইলে শুধু ফ্লোরেন্সের তোলা ছবিই থাকবে। এমনকি ফ্লোরেন্স দূর দেশে নিজের ঘরের টেলিভিশন স্ক্রিন থেকে অলিসের খেলার যে ছবিগুলো তুলেছেন, অলিস সেগুলোই পরম শ্রদ্ধায় তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছেন।
গ্ল্যামার আর কোটি টাকার ফুটবল দুনিয়ায় যেখানে প্রতিনিয়ত সম্পর্ক বদলে যায়, সেখানে মাইকেল অলিসের এই নীরব অথচ শক্তিশালী সিদ্ধান্তটি তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও সততার পরিচয় দেয়। পেশাদারিত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে একজন সহকর্মীর কাজের প্রতি এমন সম্মান সত্যিই বিরল।