স্বদেশী ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে উইম্বলডন ট্রফি জিতলেন লিন্ডা নোসকোভা ছবি: রয়টার্স
হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হঠাৎ করেই ফসকে যাওয়ার উপক্রম। পাঁচ-পাঁচটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট হাতছাড়া হওয়ার পর যে কোনো খেলোয়াড়েরই স্নায়ু ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু চরম নাটকীয়তা আর তীব্র চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ালেন লিন্ডা নোসকোভা। নিজের প্রিয় বন্ধু ও স্বদেশী ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে উইম্বলডন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন এই চেক তরুণী।
উইম্বলডনের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো 'অল-চেক' ফাইনাল দেখল টেনিস বিশ্ব। আর সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ গেমে হারিয়ে মুকুট পরলেন ২১ বছর বয়সী নোসকোভা।
ম্যাচের শুরুটা লিন্ডা নোসকোভার একপেশে আধিপত্য দিয়েই হয়েছিল। প্রথম সেট ৬-২ ব্যবধানে অনায়াসে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। যখন মনে হচ্ছিল জয় কেবল সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্যভাবে খেই হারিয়ে ফেলেন নোসকোভা। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা ৫টি গেম জিতে ম্যাচ নির্ধারণী সেটে নিয়ে যান টুর্নামেন্টের দশম বাছাই মুচোভা।
তবে চূড়ান্ত ও তৃতীয় সেটে নিজের মানসিক দৃঢ়তার অনন্য নজির গড়েন নোসকোভা। আগের সেটের ধাক্কা সামলে নিয়ে ৬-৩ গেমে সেট ও ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি।
ম্যাচ শেষে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি হাতে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নোসকোভা। তিনি বলেন:
"অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ম্যাচটা প্রচণ্ড কঠিন ছিল। শেষ পয়েন্টটি পাওয়া কখনোই সহজ নয়।"
বন্ধু ও প্রতিপক্ষ মুচোভাকে উদ্দেশ্য করে এই চেক তারকা বলেন, "তুমি ম্যাচটা আমার জন্য অনেক কঠিন করে তুলেছিলে। আমি আনন্দিত যে আমার প্রথম মেগা ফাইনালটি তোমার সঙ্গে খেলেছি। আমার মনে হয় আজ আমরা দুজনে মিলে ইতিহাস তৈরি করেছি।"
শিরোপা জয়ের এই পরম আনন্দের ক্ষণে নোসকোভা স্মরণ করেছেন তার মাকে, যিনি দুই বছর আগে ঠিক উইম্বলডন শুরুর আগমুহূর্তে মারা যান। গ্যালারিতে থাকা বাবাকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন নোসকোভা। এরপর আকাশের দিকে চুমু ছুড়ে দিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আরেকজন মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি আমার মা। মা ছাড়া আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পারতাম না।"