ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য এবার লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলা। তবে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে তাদের সামনে এবার বড় বাধা সুইজারল্যান্ড। আজ সকাল ৭ টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে সুইসরা। দল হিসেবে তারা অত্যন্ত গোছানো, ধৈর্যশীল এবং কৌশলী।
কোয়ার্টার-ফাইনালের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি মূলত হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ও ক্রিয়েটিভ ফুটবল বনাম সুইজারল্যান্ডের কাউন্টার অ্যাটাক ও কমপ্যাক্ট ব্লকের এক রোমাঞ্চকর ডুয়েল।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে টানা তিন ম্যাচ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটে পা রাখে তারা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই লিওনেল মেসির দূরদর্শিতা এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত চাপে রেখেছে।
তবে নকআউটের পথটা আর্জেন্টিনার জন্য মসৃণ ছিল না:
রাউন্ড অফ ৩২-এ বিপক্ষে ছিলো কেপ ভার্দে। এই ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের স্ট্রাইক এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় পায় আর্জেন্টিনা।
রাউন্ড অফ ১৬-এ মিশরের বিপক্ষে ম্যাচেও শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মেসির এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট এবং শেষ মুহূর্তে এঞ্জো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে জয় নিশ্চিত হয়।
টানা দুটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা প্রমাণ করে যে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও ম্যাচ বের করে নেওয়ার অবিশ্বাস্য মানসিকতা রয়েছে এই দলের।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে নিজেদের চিনিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শক্তিতে। গ্রুপ পর্বে কাতারের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ এবং কানাডাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর রাউন্ড অফ ৩২-এ আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের সহজ জয় পায় সুইসরা।
তবে রাউন্ড অফ ১৬-এ কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল তাদের আসল শক্তির মহড়া: অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর, পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করে সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার তারকা ফরোয়ার্ডদের পুরো ম্যাচ জুড়ে বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন সুইস ডিফেন্ডাররা। টাইব্রেকারে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত কিছু সেভ করেন এবং রুবেন ভার্গাস জয়সূচক পেনাল্টিটি জালে জড়ান। চরম চাপের মুখেও সুইজারল্যান্ডের এই ঠান্ডা মাথার ফুটবল সত্যিই প্রশংসনীয়।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কী হতে পারে?
সুইজারল্যান্ড নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি নিরেট রক্ষণভাগ বা 'লো-ব্লক' তৈরি করার চেষ্টা করবে। তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে মেসি-এনজোদের পাসিং লেন বন্ধ করে ম্যাচটিকে ধৈর্যের পরীক্ষায় রূপ দেওয়া এবং সুযোগ বুঝে কাউন্টার অ্যাটাকে আঘাত করা।
বিপরীতে, আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে টানা দুটি রোমাঞ্চকর কামব্যাক জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে।
রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা বনাম আক্রমণাত্মক ক্রিয়েটিভিটি—দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ফুটবলপ্রেমীরা আরও একটি রুদ্ধশ্বাস নকআউট লড়াই উপভোগ করতে যাচ্ছেন।