Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আরও ২ দিন বৃষ্টির আভাস, সাত জেলায় বন্যা অব্যাহত

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুলাই,২০২৬, ১০:০৭ এ এম
আরও ২ দিন বৃষ্টির আভাস, সাত জেলায় বন্যা অব্যাহত

যশোরে সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা আকাশ। মাঝে মাঝে ঝরছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস বলছে বৃষ্টির এ ধারা আরো দুইদিন অব্যহত থাকতে পারে।এদিকে, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও এর তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে দেশের অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গত তিন থেকে পাঁচ দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। তবে আজ শনিবার সেই বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমবে। আগামীকাল রোববার ও পরশু সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি থাকবে, তবে মঙ্গলবার থেকে তা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সাগরে বিরূপ আবহাওয়া কমে আসায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত তুলে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং বায়ুচাপের তারতম্যের কারণেই গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। জেলাগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান। আজ শনিবার পর্যন্ত চারটি নদীর ছয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো- সাঙ্গু নদের বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট, মনু নদ এবং খোয়াই নদের বল্লা পয়েন্ট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম। একই সময়ে ফেনী অঞ্চলেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তবে তিনি বলেন, গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি কমেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। আগামী সোমবার থেকে ভারী বৃষ্টি আরও কমে এলে ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর অঞ্চল ও উজানের বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বর্তমানে তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

আজ শনিবার দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদীর পানি বেড়েছে, ৬৪টিতে কমেছে এবং ছয়টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে গঙ্গা ও যমুনা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। যমুনার পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১৩০ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে। আবহাওয়াবিদ ও বন্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির ধরনই দেশের বন্যা পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)