কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে তরুণদের মাদকবিরোধী ম্যারাথনে অংশ্রগহণকারীরা ছবি: ধ্রুব নিউজ
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী মাদকবিরোধী ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকালে স্থানীয় মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ইউনিয়নের দেড় শতাধিক তরুণ।
ডাকবাংলা আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথন বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। সকালে বেলুন উড়িয়ে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মহাব্বত হোসেন টিপু।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক মহাব্বত হোসেন টিপু বলেন, “মাদক কেবল একটি জীবনকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার ও সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। সাধুহাটির তরুণদের এই অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয়। সুস্থ সমাজ গড়তে হলে তরুণদের মাঠমুখী করতে হবে, খেলার মাঠে ফেরাতে হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোই পারে সমাজ থেকে মাদকের অন্ধকার দূর করতে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক নবচিত্র পত্রিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলাউদ্দীন আজাদ। তিনি বলেন, “শিক্ষাঙ্গন ও সমাজকে মাদক মুক্ত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তরুণ সমাজ আজ সচেতন না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’র এই মহতী উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং প্রতিটি অভিভাবককে তাদের সন্তানের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।”
এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন আলা, পুলিশ কর্মকর্তা অশিল কুমার, বংকিরা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আব্দুল মালেক, পল্লী চিকিৎসক ফজলুর রহমান এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সাধুহাটি ইউনিয়নের তরুণদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু’র পৃষ্ঠপোষকতায় এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। মাদকের কুফল ও তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে বিশেষ বার্তায় সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু বলেন, “আমরা আমাদের যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশায় হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। তরুণদের বুক পকেটে মাদকের বিষ নয়, থাকবে সম্ভাবনাময় স্বপ্নের বাংলাদেশ। আজকের এই ৫ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু একটি দৌড় নয়, এটি মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম যুদ্ধ। সাধুহাটি ইউনিয়নের একটি তরুণও যেন মাদকের পথে না পা বাড়ায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই পথচলা।”
ম্যারাথন শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দৌড়বিদকে সচেতনতামূলক উপহার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে।