ক্রীড়া ডেস্ক
ইউরোপের দলের বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশ টিমের ড্রেসিংরুমে আনন্দের উল্লাস ছবি: জামাল ভূঁইয়া/ফেসবুক
ইউরোপীয় ফুটবলের আঙিনায় বাংলাদেশ দল কেবল অংশ নিতে যায়নি, গেছে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে। গত রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২–১ গোলে হারিয়ে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল বাংলাদেশ। দলের নতুন কোচ টমাস ডুলির ডাগআউটে অভিষেকের রাতে এই জয় দেশের ফুটবলকে দেখাল এক অচেনা সাহসের পথ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা গিয়েছিল রক্ষণ সামলে ড্র করার চিরাচরিত এশিয়ান মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেনি বাংলাদেশ। গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পোস্টের নিচে রেখে কোচ টমাস ডুলি দল সাজিয়েছিলেন ৪-৩-৩ ফরমেশনে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়ার ওপর ভরসা রেখেছিলেন কোচ। আর আক্রমণভাগে রফিকুল, মোরছালিন ও ফাহিমরা ম্যাচজুড়ে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন সান মারিনোর ডিফেন্সকে। কোনো আকস্মিক কাউন্টার-অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণ নয়, বরং পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং ২৪৪টি সফল পাস খেলে আধিপত্য বজায় রেখেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
ইউরোপীয় দলগুলোর প্রধান শক্তি ধরা হয় তাদের শারীরিক গঠন এবং সেট-পিস বা শূন্যে ভেসে আসা বলের নিয়ন্ত্রণকে। কিন্তু কাল সান মারিনোকে তাদের এই সেরা অস্ত্রেই কুপোকাত করেছে বাংলাদেশ, যার নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।
প্রথম গোল (১৯ মিনিট): ম্যাচের ১৯ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সীমিত সুযোগের শতভাগ ব্যবহার করে দারুণ এক হেডে দলকে লিড এনে দেন তপু।
ম্যাচ জয়ী গোল (৮৬ মিনিট): প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে সান মারিনোর জিয়াকোপেত্তি গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক ৮৬ মিনিটে আবারও ত্রাতা হয়ে ওঠেন তপু। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে তাঁর নিখুঁত হেড লক্ষ্যভেদ করলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
ডুলির কুশলী পরিবর্তন ও ডিফেন্সের দেয়াল
ম্যাচের প্রথমার্ধে সান মারিনো সমতায় ফিরলে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ ডুলি একাদশে ৬টি পরিবর্তন আনেন। ফুটবলীয় পরিভাষায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও ডুলির এই কৌশল বাংলাদেশের আক্রমণকে আরও গতিশীল করে তোলে। বদলি নামা খেলোয়াড়েরা মাঠে হাই প্রেসিং ফুটবল সচল রাখেন, যার ফলে সান মারিনোর ক্লান্ত রক্ষণভাগ ক্রমাগত ভুল করতে বাধ্য হয়।
একই সাথে বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইনও ছিল দুর্দান্ত। লিড ধরে রাখতে কতটা মরিয়া ছিল দল, তা প্রমাণ করে ম্যাচের এই পরিসংখ্যানগুলো:
রেফরির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের উল্লাসটা কেবল একটি সাধারণ জয়ের ছিল না; এটি ছিল কোচ টমাস ডুলির আধুনিক ফুটবল দর্শনের সাথে বাংলাদেশি ফুটবলারদের নিখুঁত মেলবন্ধনের এক সার্থক উদযাপন। এই জয় দেশের ফুটবলকে আগামী দিনে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে।