ক্রীড়া ডেস্ক
গতকালকের হ্যাটট্রিকের পর কেইনের এই মৌসুমের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে। ছবি: বায়ার্ন মিউনিখ অফিসিয়াল
জার্মান বুন্দেসলিগায় নিজেদের শেষ ম্যাচে হ্যারি কেইন যা করলেন, তাকে কেবলই ফুটবল ম্যাচ বলা ভুল হবে, তা ছিল নিখাদ এক জাদুকরী প্রদর্শনী। গতকালকের ম্যাচে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে কেইন কেবল নিজের দলের জয়ই নিশ্চিত করেননি, বরং একই সাথে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নিয়েছেন।
খেলায় কেইনের গোলগুলোর বৈচিত্র্য ছিল দেখার মতো। প্রথম গোলটি আসে চোখ ধাঁধানো এক অনবদ্য ভলিতে। এরপর ফুটবলপ্রেমীদের মাতোয়ারা করে তিনি দ্বিতীয় গোলটি করেন দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে। আর সবশেষে দূরপাল্লার এক ‘লং রেঞ্জ’ শটে গোল করে পূর্ণ করেন নিজের অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক।
ভাঙলেন দুই কিংবদন্তির রেকর্ড
এই হ্যাটট্রিকের মধ্য দিয়ে কেইন বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসের দুটি বড় রেকর্ড নিজের নামে লিখে নিয়েছেন:
মাইকেল বালাকের রেকর্ড ভাঙা: ২০০৫-০৬ মৌসুমে জার্মানির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার মাইকেল বালাক ডি বক্সের বাহির থেকে ৫টি গোল করেছিলেন। এতদিন পর্যন্ত বায়ার্নের হয়ে কোনো একটি একক মৌসুমে ডি বক্সের বাহির থেকে করা এটিই ছিল সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। গতকালকের দূরপাল্লার গোলের মাধ্যমে কেইন বালাকের সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন।
রবার্ট লেওয়ানডস্কির রেকর্ড ভাঙা: বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেওয়ানডস্কি তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুমে মোট ৫৫টি গোল করেছিলেন। গতকালকের হ্যাটট্রিকের পর কেইনের এই মৌসুমের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে। ফলে লেওয়ানদস্কির সেই আকাশচুম্বী কীর্তিও টপকে গেলেন কেইন।
পাশাপাশি, চলতি বুন্দেসলিগায় একের অধিক হ্যাটট্রিক করা একমাত্র খেলোয়াড়ও এখন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে রবার্ট লেওয়ানডস্কি যা করে গিয়েছিলেন, তাতে তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া যেকোনো ক্লাবের জন্যই ছিল এক অসম্ভব মিশন। অনেকেই ভেবেছিলেন লেওয়ানডস্কির অভাব পূরণ করা বায়ার্নের পক্ষে সহজে সম্ভব হবে না। কিন্তু হ্যারি কেইন আলিয়ানজ অ্যারেনায় পা রেখে প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল শূন্যতা পূরণ করতেই আসেননি, বরং আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে যেতে এসেছেন।
চলতি মৌসুমে হ্যারি কেইন যা করে দেখাচ্ছেন, তা যেন কোনো রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। তিনি প্রতি ম্যাচেই নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন—নিজে গোল করছেন, আবার সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেন। বল পায়ে মাঠে তিনি এতটাই সাবলীল ও স্বচ্ছন্দ যে, শেষ কবে কোনো স্ট্রাইকারকে এভাবে খেলতে দেখা গেছে, তা ফুটবল বিশ্লেষকদের পক্ষে মনে করা কঠিন।
ইউরোপের সেরা ‘নাম্বার নাইন’ নাকি এই মুহূর্তের বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়—ঠিক কোন উপাধিতে ভূষিত করলে হ্যারি কেইনের এই অতিমানবীয় রূপকে ব্যাখ্যা করা যাবে, তা সত্যিই আজ ভাবনার বিষয়। তবে পরিসংখ্যান কিংবা উপাধির হিসাব-নিকাশ একপাশে সরিয়ে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এখন একটাই কাজ—দুচোখ ভরে কেইনের এই ফুটবল জাদুকে উপভোগ করা।