ক্রীড়া ডেস্ক
ইরান ফুটবল দল ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর শুরু হতে হাতে বাকি মাত্র চার সপ্তাহ। অথচ মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইরান। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ভিসা পায়নি ইরানের জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ এই উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতির এই সময়েও ভিসা ইস্যুটির কোনো সমাধান হয়নি।
ফিফার সঙ্গে জরুরি বৈঠক
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার দ্বারস্থ হচ্ছে ইরান। মেহেদি তাজ বলেন,
"আগামীকাল অথবা পরশু ফিফার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের একটি চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ভিসা সমস্যার সমাধানে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের অবশ্যই একটি নিশ্চয়তা দিতে হবে। কারণ, এখন পর্যন্ত কারা ভিসা পাচ্ছে বা কারা বাদ পড়ছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।"
আঙুলের ছাপ দিতে যেতে হবে তুরস্কে
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ভিসাপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে খেলোয়াড়দের তৃতীয় কোনো দেশে যেতে হবে। মেহেদি তাজ জানান, নিয়ম অনুযায়ী আঙুলের ছাপ দেওয়ার জন্য ফুটবলারদের তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যাওয়ার কথা। তবে যাতায়াতের ঝক্কি কমাতে তারা এই কার্যক্রমটি আন্তালিয়াতে সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মাঠের খেলার ওপর রাজনীতির ছায়া বেশ দীর্ঘ। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে ৮ এপ্রিল থেকে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে। ১৯৮০ সাল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় এই ধরনের বড় আসরে দল পাঠানো সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।
এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও বুধবার রাতে তেহরানে জাতীয় ফুটবল দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য দলটি এখন তুরস্কে একটি প্রশিক্ষণ শিবির করবে।
এবারের আসরে ইরানকে খেলতে হবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলো বেলজিয়াম ও মিসর।
এখন দেখার বিষয়, ফুটবল কূটনীতির মাধ্যমে এই ভিসা সমস্যার সমাধান করে ইরান শেষ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে সময়মতো পৌঁছাতে পারে কি না।