ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর শুরু হতে বাকি মাত্র এক মাস। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এই আসরের সম্প্রচার স্বত্ব কেউ না কেনায় সাধারণ মানুষ খেলা দেখতে পারবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশে যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, তা নজর কেড়েছিল খোদ ফিফারও। কিন্তু চার বছর পর সেই আমেজ এবার বিষাদে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এখন পর্যন্ত সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারেনি। পাশাপাশি বেসরকারি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মও এ বিষয়ে জোরালো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’ এবার বাংলাদেশে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে। বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি স্বত্ব বাবদ প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে, যা করসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। শর্ত অনুযায়ী এই অর্থের বড় একটি অংশ ১০ মের মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিল। গত এপ্রিলে বিটিভি ফিফার কাছে সরাসরি বিনা মূল্যে বা স্বল্প মূল্যে সম্প্রচারের সুযোগ চেয়ে দুটি ই-মেইল পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
এদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এবার অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের যুক্তি, এবারের ম্যাচগুলো বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী গভীর রাত ও ভোরে অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলে দর্শক ও বিজ্ঞাপন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও বড় বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না অনেক প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক রয়েছে, যেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক জানিয়েছে, তারা আলোচনার জন্য এখনো প্রস্তুত। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য মূল্যে স্বত্ব দিতে তারা রাজি। তবে সময় খুব কম হওয়ায় দ্রুত আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, “আমরা ফুটবলপ্রেমী জাতি। এখানে বিশ্বকাপ দেখানো হবে না, এটা ভাবাই যায় না। সরকারের পক্ষ থেকে হোক বা বেসরকারি মাধ্যমে—বিশ্বকাপ দেখাতেই হবে।”