ক্রীড়া ডেস্ক
মিরপুরের ২২ গজে বল হাতে যখন নাহিদ রানা দৌড় শুরু করেন, গ্যালারিতে তখন গতির রোমাঞ্চ। আর ক্রিজে থাকা পাকিস্তানি ব্যাটারদের চোখেমুখে কেবলই ত্রাস। দুই মাস আগে ওয়ানডে সিরিজে যে নাহিদ রানার তোপে কুপোকাত হয়েছিল পাকিস্তান, সাদা পোশাকেও সেই একই খুনে মেজাজে ধরা দিলেন এই তরুণ তুর্কি। মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনে নাহিদের ‘আগুনঝরা’ স্পেলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ফলাফল—১০৪ রানের এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর জয়।
জয়ের জন্য ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছিল পাকিস্তান। এক পর্যায়ে ৫ উইকেটে ১৫২ রান তুলে ম্যাচটি ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছিল সফরকারীরা। কিন্তু দৃশ্যপটে নাহিদ রানার আবির্ভাব সব হিসাব পাল্টে দেয়। মাত্র ১১ রান যোগ করতেই শেষ ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ১৬৩ রানেই থমকে যায় তাদের ইনিংস। একাই ৫ উইকেট নিয়ে লাল-সবুজের উল্লাসের নায়ক বনে যান এই ডানহাতি পেসার।
‘আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না’—শান্ত
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে ঝরল কেবলই নাহিদ-স্তুতি। প্রথম ইনিংসে শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সার নাহিদের হেলমেটে লেগেছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন নাহিদ বল হাতে নিলেন, গতির সাথে বাউন্সারের যেন মোক্ষম জবাব দিলেন তিনি। শাহিন আফ্রিদি নিজেও নাহিদের গতির মুখে দাঁড়াতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে শান্ত বলেন:
"রানার কথা আমরা জানি ও কতটা স্পেশাল। প্রতিপক্ষ যেভাবে ওর গতিতে ভয় পাচ্ছিল, ওটা দেখতে দারুণ লেগেছে। বাউন্সারের জবাব যে ও দিতে জানে সেটা সবাই দেখেছে। আমি অন্তত ওর জায়গায় থাকলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না, কারণ অত জোরে বাউন্সার খেলার শখ আমার নেই!"
নাহিদের এই সাফল্যের পেছনে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের অবদানের কথা মনে করিয়ে দেন শান্ত। উইকেটের পেছন থেকে তরুণ এই পেসারকে ক্রমাগত পরামর্শ দিয়ে গেছেন মুশফিক। এছাড়া নাহিদের রিভার্স সুইং দেখে খোদ শান্ত এবং লিটন দাসও অবাক হয়েছেন। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করার মুহূর্তটি নিয়ে শান্ত বলেন, "রানার বল অতটা ভেতরে আসবে এটা আমি আর লিটন আশাই করিনি। ও যে রিভার্স সুইং শিখছে, এটা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক।"
শান মাসুদের কণ্ঠে শুধুই হতাশা
পরাজিত দলের সেনাপতি শান মাসুদের কণ্ঠে ছিল একরাশ মেঘ। নাহিদের প্রশংসা করলেও নিজের দলের ব্যর্থতায় পুড়ছেন তিনি। মাসুদ বলেন: "ওর (নাহিদ) গুণাবলী আছে এবং সে পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। তবে আমাদের জন্য এটা চরম হতাশাজনক। সেট ব্যাটাররা যদি আর কিছুক্ষণ টিকে থাকত, তবে আমরা ম্যাচটা ড্র করতে পারতাম।"
বাংলাদেশের এই জয়ে সিরিজজুড়ে আধিপত্য বজায় থাকল টাইগার পেসারদের। বিশেষ করে নাহিদ রানার এই বিধ্বংসী রূপ বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস ইউনিটের এক নতুন বার্তাই দিল।