ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র ৩০ দিন। এরপরই উত্তর আমেরিকায় পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের বৃহত্তম আসরের। ৩২ থেকে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগে মাঠের বাইরের এক লড়াইয়ে বেশ চাপে আছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ—ভারত ও চীনে এখনো টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব চূড়ান্ত করতে পারেনি ফিফা। ফলে এই দুই দেশের কোটি কোটি দর্শক ১০৪টি ম্যাচের সবকটি সরাসরি দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।
ভারতের বাজারে বড়ো ধস
ফিফা শুরুতে ভারতের বাজারের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্য নির্ধারণ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা। রিলায়েন্স ও ডিজনির একীভূত শক্তিশালী মাধ্যম ‘জিওস্টার’ মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যা ফিফার প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম।
স্মর্তব্য যে, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে সনি প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। এমনকি কাতার বিশ্বকাপের সময় ভায়াকম১৮ খরচ করেছিল ৬২ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু এবার কেন এই বিমুখতা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:
সময়ের পার্থক্য: এবার অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ভারতের গভীর রাতে বা ভোরে। মাত্র ১৪টি ম্যাচ মধ্যরাতের আগে শুরু হবে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য মোটেও আকর্ষণীয় নয়।
প্রতিযোগিতার অভাব: রিলায়েন্স ও ডিজনির একীভূত হওয়ার ফলে বাজারে এখন বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সনি ছাড়া জিওস্টারের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো কেউ না থাকায় তারা দরাকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
ক্রিকেটের আধিপত্য ও রুপির মান: ভারতে ক্রীড়া বাজারের সিংহভাগ দখল করে আছে ক্রিকেট। আইপিএলের ভিউয়ারশিপে সাম্প্রতিক ভাটা এবং ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে যাওয়া সম্প্রচারকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে
চীনের বাজারেও একই সুর
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টিভি দর্শকের প্রায় ১৮ শতাংশ এসেছিল চীন থেকে। কিন্তু এবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি মাত্র ৬০-৮০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট রেখেছে, যা ফিফার চাহিদার তুলনায় নগণ্য। চীনের জাতীয় দলের বাজে পারফরম্যান্স এবং সময়ের পার্থক্যের কারণে সাধারণ দর্শকদের মাঝেও এবার আগ্রহ কিছুটা কম। তবে ফিফার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছে, যেখান থেকে দ্রুত কোনো সমঝোতার খবর আসতে পারে।
ফিফার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো যদি শেষ মুহূর্তে বড় ছাড় আদায় করে নিতে পারে, তবে তা ফিফার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও একই কৌশল অবলম্বন করে সম্প্রচার স্বত্বের দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে, যা ফিফার আয়ের প্রধান উৎসকে হুমকির মুখে ফেলবে।
এখন দেখার বিষয়, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কি শেষ পর্যন্ত নিজের অনড় অবস্থান ধরে রাখেন, নাকি বিশাল এই দর্শকগোষ্ঠীকে ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন না রাখতে বড় ছাড় দিতে বাধ্য হন।