ক্রীড়া ডেস্ক
অবিশ্বাস্য এক বোলিং প্রদর্শন আর টাইগারদের দলীয় নৈপুণ্যে দেশের মাটিতে আরও একটি ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের দেওয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস।
চতুর্থ ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তানি ব্যাটাররা। তবে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। মাত্র ৯.৫ ওভার বল করে ৪০ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাকিস্তানের মিডল অর্ডার থেকে লোয়ার অর্ডার—সবখানেই একাই ধস নামান তিনি। মূলত তার গতির কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের পক্ষে একমাত্র ওপেনার এ. ফজল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি ১১৩ বলে ৬৬ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। এছাড়া সালমান আঘা ২৬ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৫ রান করলেও বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে অন্যরাও ছিলেন দুর্দান্ত:
তাইজুল ইসলাম: ১৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
তাসকিন আহমেদ: ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট।
মেহেদী হাসান মিরাজ: ১৭ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে তুলে নেন ১টি উইকেট।
ম্যাচ পরিসংখ্যান একনজরে
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩/১০
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬/১০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৪০/৯ (ডি.)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৬৩/১০
ফলাফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
ম্যাচের পঞ্চম দিনে সেশন থ্রিতে এসেই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে সিরিজে বড় মানসিক সুবিধায় থাকল টাইগাররা। বোলিং ইউনিটের এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাই যায়। আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার দ্বিতীয় টেস্টের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ দল।