মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে একক আধিপত্য বিস্তার করলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নবীন এই অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং অসাধারণ ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপের বিপক্ষে শান্তর এই পারফরম্যান্স তাকে টেস্ট ক্রিকেটে অনন্য উচ্চতায় বসিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই যখন দলীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিশেহারা বাংলাদেশ, তখন হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে চোখ ধাঁধানো একটি সেঞ্চুরি। ১৩০ বলে ১০১ রানের এই লড়াকু ইনিংসটি সাজানো ছিল ১২টি চারে এবং ২টি ছক্কায়। উইকেটের চারদিকে শটের ফুলঝুরি ছুটিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড বলা হয়। এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তার নবম শতক।
প্রথম ইনিংসের ফর্ম দ্বিতীয় ইনিংসেও টেনে নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এবারও ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে আক্ষেপ হয়ে রইল নোমান আলির বলে খেলা একটি রিভার্স সুইপ। ৮৭ রানে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাকে। মাত্র ১৩ রানের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরির এক বিরল রেকর্ড থেকে বঞ্চিত হন শান্ত। তবে তার এই ৮৭ রানের ইনিংসটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরার পর থেকেই শান্তর ব্যাটে রানের ধার যেন বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও গড়ে দিয়েছে—বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে একাধিক টেস্ট সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। দলের প্রয়োজনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা বর্তমান টেস্ট দলের জন্য এক বড় ইতিবাচক দিক।
"শান্ত শুধু একজন ব্যাটার হিসেবেই নয়, বরং একজন লিডার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মিরপুরের এই পারফরম্যান্স দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।"
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই লড়াইয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও, নাজমুল হোসেন শান্তর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। মিরপুর টেস্টে তার এই বীরত্বগাথা দীর্ঘকাল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে।