বড়ো ম্যাচে বরাবরই জ্বলে ওঠেন খভিচা কাভারাটসখেলিয়া ছবি: গেটি ইমেজ স্পোর্ট
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। ঘরের মাঠে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। গোলের মহোৎসবে ঠাসা এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে ফরাসি ক্লাবটিই।
খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। বায়ার্নের হয়ে ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন। তবে পিএসজি দমে না গিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। ২৪ মিনিটে কাভারাটসেখেলিয়া গোল করে সমতা ফেরান। এরপর ৩৩ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে লিড নেয় পিএসজি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডেম্বেলে পেনাল্টি থেকে গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ৪১ মিনিটে মাইকেল অলিস বায়ার্নের পক্ষে ব্যবধান কমালেও পিএসজি তাদের আক্রমণ বজায় রাখে। ৫৬ মিনিটে কাভারাটসেখেলিয়া এবং ৫৮ মিনিটে ডেম্বেলে নিজেদের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-২। যখন মনে হচ্ছিল পিএসজি বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন। ৬৫ মিনিটে উপামেকানো এবং ৬৮ মিনিটে লুইস দিয়াজের গোলে ব্যবধান ৫-৪-এ নেমে আসে। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট বায়ার্ন মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও পিএসজি-র রক্ষণভাগ আর কোনো ভুল করেনি।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখ ৫৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে আধিপত্য দেখালেও পিএসজি-র ধারালো আক্রমণ বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে। বায়ার্ন ১০টি শটের মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে রেখেছিল, অন্যদিকে পিএসজি ১৪টি শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে রেখে ৫টি গোল আদায় করে নিয়েছে। পিএসজি-র পাস দেওয়ার নির্ভুলতা ছিল ৮৬ শতাংশ। তবে ফাউল করার ক্ষেত্রে পিএসজি কিছুটা আগ্রাসী ছিল, তারা মোট ১৩টি ফাউল করেছে এবং ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে।
৫-৪ ব্যবধানে জিতে পিএসজি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও দ্বিতীয় লেগ হবে বায়ার্নের ঘরের মাঠে। একটি গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য বায়ার্নের রয়েছে। ফলে দ্বিতীয় লেগে দুই দলের মধ্যেই এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল প্রেমীরা।