ক্রীড়া ডেস্ক
দশ মাস পর প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেও রোহিত ছিলেন স্বভাবসুলভ ছন্দেই সাবলীল। ছবি: সংগৃহীত
হার্দিক পান্ডিয়ার প্রিয় স্লোগান ছিল, ‘আপনা টাইম আয়েগা’ (আমাদের সময় আসবে)। ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে গত পাঁচ বছর শিরোপাহীন থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এই অপেক্ষার প্রহর যেন কাটছিলই না। বিশেষ করে, গত ১৩টি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করে বেড়াচ্ছিল মুম্বাইকে, অবশেষে রবিবার রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তার অবসান ঘটল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে রান পাহাড় টপকে এক রাজকীয় জয়ে নতুন মৌসুম শুরু করল মুম্বাই।
২২০ এর বেশি রান তাড়া করে জেতা আইপিএলের ১৮ বছরের ইতিহাসে মাত্র পাঁচবার ঘটেছে। কিন্তু পান্ডিয়ার দল যেন এই কঠিন কাজটিকেও ছেলেখেলায় পরিণত করল। কলকাতার দেওয়া বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিয়ে ১৩ বছর পর মৌসুমের প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল তারা। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "১৩ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। আমরা সবসময়ই চেয়েছি জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে, এবার সেটা পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।"
এবারের আসরের আগে রোহিত শর্মার ফিটনেস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। ওজন কমিয়ে আরও ক্ষিপ্র চেহারায় মাঠে নেমেছিলেন ‘হিটম্যান’। মাঠে তার প্রতিফলনও দেখা গেল হাতেনাতে। ৩৮ বলে ৭৮ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৫! তার ব্যাটে ছিল ৪টি চার ও ৬টি নান্দনিক ছক্কা।
কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের মতে, অধিনায়কত্বের চাপ না থাকায় রোহিত অনেক বেশি নির্ভার হয়ে খেলছেন। দীর্ঘ ১০ মাস টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে দূরে থাকলেও তার সিগনেচার 'পুল শট' কিংবা টাইমিংয়ে কোনো মরচে ধরেনি। জয়াবর্ধনে বলেন, "সে ক শান্ত হয়ে চিন্তা করছে। আমরা তাকে শুরু থেকেই ক্যাম্পে পেয়েছি এবং সে দারুণ ক্ষুধার্ত।"
রোহিত যদি ব্যাট হাতে ক্লাস দেখান, তবে জাসপ্রিত বুমরাহ বল হাতে দেখিয়েছেন নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। স্কোরকার্ডে হয়তো কোনো উইকেট নেই (০/৩৪), কিন্তু তার ৪ ওভারই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। যখন কেকেআর ২৪০-২৫০ রানের দিকে এগোচ্ছিল, তখন বুমরাহ তার নিখুঁত ইয়র্কার আর স্লোয়ার দিয়ে রানের গতি থামিয়ে দেন।
১২তম ওভারে মাত্র ৫ রান এবং ইনিংসের শেষ দিকে ১৮ ও ২০তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে কলকাতাকে ২২০ রানে আটকে রাখেন তিনি। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেও অকপটে স্বীকার করেছেন, "বুমরাহ না থাকলে আমরা অনায়াসেই ২৩০-২৪০ রান তুলে ফেলতাম। ওই পার্থক্যটুকুই আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।"
মুম্বাইয়ের হয়ে শার্দুল ঠাকুর ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন এবং কেকেআরের পক্ষে রায়ান রিকেলটন ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও দিনটি ছিল শুধুই রোহিত আর বুমরাহর।
এই জয় শুধু মুম্বাইকে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে দিল না, বরং বাকি ৯টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও কড়া বার্তা দিয়ে রাখল— মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবার কোমর বেঁধে শিরোপার জন্যই নেমেছে।