সাইকেলে ক্রিংক্রিং
দাদী তোর বকাবকি, সাইকেলে ক্রিংক্রিং
হেমন্তের সকালে, শামুকের খাড়া শিং
দুপুরের ডাংগুলি, সাতারের দলটা
ভাগ করে কিনে আনা, গলির ওই বলটা
আরো ঐ কপালে, চাঁদমুখো টিপটা
চেয়ে চেয়ে দেখি আমি, টাকি মারা ছিপটা
দাদী তুই যাই কস, দোষ হবে ঢের
এসবে মাথা ব্যথা, কিসের আমাদের?
লুকোচুরি বড় চুরি, গাছপাকা কলাটা
সাধ্য কি ধরা তোর, অভিনয় বলাটা?
দাদী তোর পান খেয়ে, লাল লাল গালটা
দুষ্টুমি করে যতো, মেটাই সব ঝালটা।
কত দূর? বহুদূর, কই- তুই দাদীরে?
দুষ্টুমি ভুলে গেছি, বসে তাই কাঁদিরে।
সাইকেল গ্যারেজে
সাইকেল গ্যারেজে টিউবের হাওয়া
টুংটুং হর্নটা খুব বেজে যাওয়া
হকারের নেবে নেবে, বলে যতো হাক
চৌরাশ যাবে নাকি? তাড়াহুড়ো ডাক
প্রথমে বিসমিল্লাহ বলা কবিরাজ
কামার কুমোর তাঁতি পাহাড়ি সমাজ
হটহট ডেকে ফেরা যতো গাড়োয়ান
ওকি গাড়িয়াল ভাই, উত্তরের গান
জীবনের রেলগাড়ী? চলে দমাদম
ফুটপাতে ফেরি করা ছোট চমচম
ইকড়ি মিকড়ি সাজে ভূতপ্রেত খেলা
সেই ভয় রাত হলে এলে একেলা?
পুকুরে সাতারটা দল বেঁধে বেঁধে
দাদীর বকুনির ঝাঁঝে কেঁদে কেঁদে
আদরের গল্পটা কবিতায় মেখে
শৈশবে যাই চলো পথ দেখে দেখে..
ফোকলা
ধুপ ধুপ করে যায় বুকখানা বড়,
ঝুরঝুর করে ঝরে মেঘ কড়কড়।
ঝমঝম বৃষ্টি ঝরে, দেখে মেঘলা,
হেসেছে রে হেসেছে তোহা ফোকলা।
রাতটা কনকনে, শীতে ঠকঠক,
এই তোহা, এবার থাম বকবক।
ঘুমিয়ে পড় নারে, রাত হয়েছে ঢের,
কালকে পড়া আছে ঢের আমাদের।