আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস হলেও, তা কার্যকর করা নিয়ে খোদ সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসেই প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, তবুও অনেক শিশু ও কিশোর-কিশোরী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ই-সেফটি' (eSafety) তাদের প্রথম প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম শিশুদের ঠেকাতে যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুরা খুব সহজেই বয়স যাচাইকরণ বা 'এজ ভেরিফিকেশন' প্রক্রিয়া এড়িয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলছে। এছাড়া, কোনো শিশু আইন অমান্য করলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানোর সুযোগও খুব সীমিত।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, তারা আইন মানতে কাজ করছে। তবে ইন্টারনেটে মানুষের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা বেশ কঠিন একটি কারিগরি চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে স্ন্যাপচ্যাট জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে সাড়ে চার লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট লক করেছে এবং প্রতিদিন আরও ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হচ্ছে।
সিডনির বিভিন্ন স্কুলে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই আগের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। অনেকে বিভিন্ন কৌশলে বয়স যাচাইয়ের ধাপগুলো পার করে ফেলছে। এই আইন নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক বাবা-মা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ করার চেয়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষিত করা বেশি কার্যকর। আবার সমালোচকদের মতে, গ্রামীণ এলাকা বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরীরা এই আইনের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, কারণ তারা মানসিক সমর্থনের জন্য অনলাইন জগতের ওপর বেশি নির্ভর করে।
ই-সেফটি কমিশনার কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো শিশুদের ঠেকাতে 'যৌক্তিক পদক্ষেপ' নিচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে এখন থেকে তারা কঠোর নজরদারি ও প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করবেন। আইন অমান্যকারী প্ল্যাটফর্মগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছরের দীর্ঘ অভ্যাস এক দিনে বদলানো কঠিন, তবে এই পরিবর্তন আনতে বাবা-মা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।