নিজস্ব প্রতিবেদক
মারধরের শিকার মো. মতিয়ার রহমান ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মসজিদের সিঁড়ির রডের সঙ্গে সাইকেলের টিউব দিয়ে বেঁধে মারধর এবং জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্প ও কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের গুড়পাড়া বাজার ও পার্শ্ববর্তী জগদীশপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা।
ভুক্তভোগী মো. মতিয়ার রহমান বিশ্বাস গুড়পাড়া বিশ্বাসপাড়ার মৃত কিনু বিশ্বাসের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেলে নিজের মেরামতের জন্য দেওয়া বাইসাইকেল আনতে গুড়পাড়া বাজারে সাদিয়ার দোকানে যান মতিয়ার রহমান। সেখানে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গুড়পাড়া জামে মসজিদের সিঁড়ির রডের সঙ্গে সাইকেলের টিউব দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাজারের লোকজন বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁকে সেখান থেকে জোর করে জগদীশপুর মাঠের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্প ও লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় বৃদ্ধকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ভাইপো সামাউলকেও মারধর করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জগদীশপুর মাঠ থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মতিয়ার রহমান বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে এসে এমন অপমানের শিকার হতে হবে, কখনো ভাবিনি। আমাকে মসজিদের সিঁড়িতে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। পরে মাঠে নিয়ে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বজলু হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘কাজে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে বেঁধে মারধর ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।