ধ্রুবডেস্ক
হেফাজতে ইসলামের লোগো ছবি:
নতুন দাবিনামায় বাদ পড়েছে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, বিজাতীয় সংস্কৃতি, মূর্তি-ভাস্কর্য, গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি নিয়ে ব্যঙ্গ, শাহবাগ ও ব্লগার প্রসঙ্গ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান দৃশ্যত নমনীয় করেছে। ২০১৩ সালে দেওয়া ১৩ দফায় নারীর বিষয়ে কঠোর ও রক্ষণশীল অবস্থান ছিল সংগঠনটি। গত আগস্টে সরকারকে দেওয়া নতুন ৯ দফায় নারীর প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া হয়েছে। দফাগুলো বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
হেফাজত নেতারা বলছেন, নারীর বিষয়ে ইসলাম সব সময় উদার। তারাও বিষয়টিকে সেই উদারতার জায়গা থেকে দেখছেন। তবে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে তারা সরে আসেননি। সংগঠনের এই পরিবর্তন কোনো আদর্শিক পরিবর্তন নয়, বরং দাবিগুলোকে সময়োপযোগী করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংবিধান, সংস্কৃতি, নারী-পুরুষের সামাজিক আচরণ, গণমাধ্যম ও মূর্তি-ভাস্কর্য নিয়ে ২০১৩ সালে হেফাজতের যে দাবিগুলো ছিল, সেগুলোর বড় অংশই নতুন ৯ দফায় নেই। ১৩ দফা থেকে শুধু চারটি দফা বাদ দেওয়াই নয়, প্রায় প্রতিটি দাবির ভাষা, পরিধি ও রাজনৈতিক তাৎপর্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এই পরিবর্তনে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিধিনিষেধ-সংক্রান্ত দাবি কমেছে। আর বিচার, কওমি শিক্ষা, রাষ্ট্রীয় কাজে আলেমদের অংশগ্রহণ এবং সংগঠনটির অভ্যন্তরীণভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবলিগ জামাত ইস্যু বেশি স্পষ্ট হয়েছে। তবে ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে আইন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মতো মূল দাবিগুলো বহাল রেখেছে তারা।
হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, হেফাজতের ১৩ দফাকে ৯ দফায় কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে যেমন কিছু বিষয় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে, তেমনি কিছু বাদও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নারীর বিষয়ে ইসলাম সব সময় উদার। আমরা ইসলামের মূলনীতি ঠিক রেখে নারীর শালীনতায় বিশ্বাসী। তাই এই পরিবর্তনকে ভিন্নভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, সরকারের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে যেতে না হয়, সেজন্য কৌশল হিসেবে সংগঠনটি এই পরিবর্তন এনে থাকতে পারে।
সময়োপযোগী দাবির তালিকা প্রণয়ন করতে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ৯ দফা দাবি প্রণয়ন করে। পরে হেফাজত আমিরের অনুমোদনক্রমে তা চূড়ান্ত হয়।
গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ৯ দফাসংবলিত লিখিত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সে সময় সরকারের কার্যক্রম, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
হেফাজতের বর্তমান ও অতীতের দাবিগুলো বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হেফাজতের দাবিনামায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের দাবিনামায় প্রথম পরিবর্তন আনা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দাবিনামায় আরেক দফা পরিবর্তন আনে তারা।
হেফাজতের একাধিক নেতা ও বিএনপির একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের দৃশ্যমান বোঝাপড়া তৈরি হয়। ফলে আগের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দাবি সংগঠনটি নিজে থেকে বাদ দেয়।
সার্বিকভাবে কী বদলেছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজতের এই পরিবর্তনে অন্তত চারটি প্রবণতা স্পষ্ট। প্রথমত, ২০১৩ সালের তালিকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ন্ত্রণে অনেক দাবি যেমন, নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, বিজাতীয় সংস্কৃতি, মূর্তি-ভাস্কর্য, গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি নিয়ে ব্যঙ্গ, শাহবাগ ও ব্লগার প্রসঙ্গ নতুন তালিকায় নেই।
দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় দাবিগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় রাখা হলেও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন মৃত্যুদণ্ডের জায়গায় সর্বোচ্চ শাস্তি; ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিলের বদলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি তোলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, নতুন তালিকায় অতীতের রাজনৈতিক ঘটনা ও বিচার একটি বড় জায়গা নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ– এই তিন সময় পর্বকে বিচারের দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
চতুর্থত, কওমি মাদ্রাসা ও আলেম সমাজ ঘিরে দাবির ধরনও বদলেছে। শুধু মামলা প্রত্যাহার বা হয়রানি বন্ধ নয়; দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন, সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেমদের অংশীদার করার দাবি যুক্ত হয়েছে।
নারী-পুরুষের সামাজিক আচরণ ও বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রসঙ্গ বাদ
১৩ দফার চতুর্থ দফায় ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে ‘বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার’, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ ‘বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ’ বন্ধের দাবি ছিল। ৯ দফায় এই দাবির কোনো অংশই নেই। পরিবর্তনের অন্যতম বড় দিক– ব্যক্তিজীবন, সামাজিক আচরণ ও সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে সরে এসেছে হেফাজত।
নারীনীতি ও শিক্ষানীতির বিরোধিতার বদলে শুধু ধর্মশিক্ষা
পুরোনো পঞ্চম দফায় ‘ইসলামবিরোধী নারীনীতি’ ও ‘ধর্মহীন শিক্ষানীতি’ বাতিলের পাশাপাশি প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি ছিল। নতুন তালিকায় নারীনীতি বাতিলের দাবি নেই। শিক্ষানীতি বাতিলের কথাও নেই। শুধু বলা হয়েছে, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক সমকালকে বলেন, ‘তারা বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এতে তাদের চিন্তার জায়গাতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে বলে আমি মনে করি।’
সংবিধান সংশোধনের দাবি বাদ
১৩ দফার প্রথম দফায় ছিল সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিলের দাবি। ৯ দফায় এর প্রথম অংশটি রাখা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস করা যাবে না।’
অর্থাৎ আগের দাবিতে সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তনের কথা স্পষ্টভাবে বলা হলেও নতুন দাবিতে তা থেকে সরে কেবল আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়ার কথা বলা হয়। হেফাজত নেতারা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ কারণে দাবিটি আর রাখা হয়নি।
‘মৃত্যুদণ্ড’ থেকে ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’
দুই তালিকাতেই আল্লাহ, রাসুল (সা.), কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়েছে। ১৩ দফার দ্বিতীয় দফায় ‘সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে’ আইন করার কথা বলা হয়েছিল। ৯ দফায় বলা হয়েছে, ‘সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে’ আইন করতে হবে। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড শব্দটি নেই।
আরেকটি পরিবর্তন হলো, ১৩ দফায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘কুৎসা’ রোধের কথাও ছিল। নতুন দাবিতে মূলত আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিষয়টি রাখা হয়েছে। ১৫ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনেও এ ধরনের দাবি উত্থাপিত হয়েছিল।
শাহবাগ, ব্লগার ও ‘নাস্তিক-মুরতাদ’ প্রসঙ্গ নেই
১৩ দফার তৃতীয় দফায় শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী ‘স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ’, ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল। ৯ দফায় বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।
কাদিয়ানিদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিযবুত তওহিদ
কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা– পুরোনো ও নতুন দুই তালিকাতেই আছে। তবে পুরোনো দাবিতে কাদিয়ানিদের প্রচারণা ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা’ বন্ধের কথা ছিল। ৯ দফায় কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে হিযবুত তওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবি যুক্ত হয়েছে।
মূর্তি-ভাস্কর্যের দাবি পুরোপুরি বাদ
পুরোনো তালিকার অন্যতম দৃশ্যমান সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক দাবি ছিল (১৩ দফার সপ্তম দফা) ঢাকাকে ‘মসজিদের নগর’ থেকে ‘মূর্তির নগর’-এ রূপান্তর এবং রাস্তার মোড়, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। ৯ দফায় মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে কোনো দাবি নেই।
মসজিদ, ওয়াজ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতার দাবি ছিল ১৩ দফায়। ৯ দফায় এটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের নবম দফায় রেডিও-টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামী সংস্কৃতি নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় ধর্মীয় পোশাককে নেতিবাচক চরিত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষ সৃষ্টি বন্ধের দাবি ছিল। এই সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকেন্দ্রিক অংশ ৯ দফায় রাখা হয়নি।
এনজিও-মিশনারি থেকে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম
পুরোনো দশম দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও ও খ্রিষ্টান মিশনারিদের ধর্মান্তরকরণসহ সব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি ছিল। এখন বিষয়টি অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও সীমিত করে বলা হয়েছে– ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’ ধর্মান্তর কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংযোজন– শাপলা ও জুলাই-আগস্ট
৯ দফায় স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে বিচারসংক্রান্ত দাবিতে। এর তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে, শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যায়’ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। চতুর্থ দফায় ২০২১ সালের মোদিবিরোধী (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-হত্যাযজ্ঞে জড়িত হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও হামলার বিচারকেন্দ্রিক দাবি রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক বলেন, ‘শাপলা চত্বরে সেদিন কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়াকে আমি স্বাগত জানাই। কারণ, সেদিন যেভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমরা সত্য জানতে চাই। প্রকৃত সত্য জানার অধিকার নাগরিক হিসেবে আমাদের রয়েছে।’
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দাবি
১৩ দফায় ছিল কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধের দাবি। ৯ দফায় যুক্ত হয়েছে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ। দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে।
আলেমদের পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবি
নতুন নবম দফায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বলা হয়েছে, আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করতে হবে। এটি ভাষাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পুরোনো দাবিতে আলেমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। নতুন দাবিতে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশীদার করার একটি রাজনৈতিক ভূমিকার দাবি যুক্ত হয়েছে।
সাদ কান্ধলভী ও তাবলিগ জামাত নতুন করে দাবির কেন্দ্রে
হেফাজত বলছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও হেফাজত সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে আসা এবং তাবলিগের বিরোধ নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে।
যা বললেন হেফাজত নেতা
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘হেফাজতের দাবির তালিকায় কী আছে, কী নেই, সেটি বড় কথা নয়। ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছে। তথাকথিত সেকুলাররা নারীর অধিকারের নামে, আধুনিকতার নামে তাদের পণ্যে পরিণত করতে চায়। আমরা সব সময় তার বিরোধিতা করে আসছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের নামে মূতি নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা তার প্রতিবাদ করেছিলাম। তাদের পতন ঘটেছে। বর্তমান সরকার ভাস্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণ করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। একই কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে কথিত শাহবাগে আন্দোলনকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তি দাবির বিষয়টিও।
হিযবুত তওহিদ নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ইসলামকে বিকৃত করছে, বিভিন্ন ফিতনামূলক কর্মকাণ্ড করছে। এ জন্য সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে দাবির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র : দৈনিক সমকাল