নিজস্ব প্রতিবেদক
অভিভাবকদের সাথে বাড়ি ফিরছেন ছাত্রীরা। ইনসেটে মেস মালিক ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সামনের কারবালা বনবীথি লেনের ‘তিন ভাইবোন’ নামে ৫ তলা ভবনের মেসে থাকা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় আলোচিত সেই বাড়ি মালিক আনোয়ার হোসেন এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ইতিপূর্বেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রায় ৩ মাস আগে তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে কারামুক্তির পরও তার স্বভাবের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যশোর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন (বর্তমানে মাগুরায় কর্মরত) এসআই ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সদর উপজেলার নুরপুর শান্তলা এলাকার এক কলেজ ছাত্রী কারবালা রোডের বনবীথি লেনে আনোয়ার হোসেনের ভবনের মেসে ভাড়া থাকতেন। ওই ছাত্রী আনোয়ারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, প্রায় ৭ মাস আগে ধর্ষণ মামলায় আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেই মামলায় প্রায় ৩ মাস আগে আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্ত হন। তিনি আরও জানান, আনোয়ার হোসেন এক সময় সরকারি এমএম কলেজে কর্মচারী পদে চাকরি করতেন। সেখানে বরখাস্ত হওয়ার পর উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতের আদেশে চাকরি ফিরে পেলে তাকে যশোর সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়। সেখানে তিনি অফিস সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (মোমিন গার্লস স্কুল) বদলি করা হয়। চাকরি জীবনের দুই বছর বাকি থাকা অবস্থায় এই ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং এর ফলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
এদিকে, ধর্ষণ ঘটনার পরও তাঁর বাড়ির মেসের ছাত্রীদের অশ্লীল প্রস্তাব, দুর্ব্যবহার এবং গেটে তালা দিয়ে ছাত্রীদের আটকে রাখার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ার হোসেনের নৈতিক স্খলনের পরিবর্তন না হওয়ায় এলাকার নারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেন তার ভবনের মেসে থাকা কয়েকজন ছাত্রীকে অশ্লীল প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেস মালিক ঘটনাটি অন্যদিকে ঘোরাতে মূল গেটে তালা লাগিয়ে ছাত্রীদের আটকে রাখলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে মেস মালিক কৌশলে সটকে পড়ায় তখন তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোতোয়ালি থানার এসআই রইসুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় আনোয়ার হোসেনের একটি ৫ তলা ভবন রয়েছে। তিনি কয়েকটি ফ্ল্যাটে ছাত্রীদের ভাড়া দিয়েছেন। কয়েকজন ছাত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, মেস মালিকের ব্যবহার ভালো নয়। তিনি আকার-ইঙ্গিতে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। এ কারণে এক ছাত্রী শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেস ছেড়ে চলে যেতে চাইলে তার কাছে দুই মাসের ভাড়া বকেয়া পাওনা বলে দাবি করেন মালিক। তখন অন্য ছাত্রীরা ওই ছাত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরই একপর্যায়ে মেস মালিক আনোয়ার হোসেন কেউ যাতে বের হতে না পারে সেজন্য মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেন। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হলে ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে ফোন দেওয়া হয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মেস মালিক কৌশলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ চাবি সংগ্রহ করে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রীদের বক্তব্য শোনে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি।