নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, “এই বাংলাদেশ বিএনপির একার নয়, সবার। তাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব যার যার অবস্থান থেকে আমাদের নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হবে। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলব, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলব; কিন্তু গুরুজনদের অসম্মান করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে কটু কথা বলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা ভর্ৎসনা করার যে অপসংস্কৃতি ফ্যাসিস্টরা রেখে গেছে, তা বজায় রাখলে চলবে না। এসব আচরণ মূলত ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বিনষ্টের বড় উপাদান।”
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, “বিএনপি ও তারেক রহমানকে যখন জুলাইয়ের চেতনা শেখানো হয় কিংবা জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলা হয়, তখন হাসি পায়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর উপস্থিতিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যে ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তার প্রতিটি শব্দ ও বাক্য বিএনপি ধারণ করে। এটি বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন, বিএনপি তা-ই করবে।”
আইন প্রণয়ন ও অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংসদ অধিবেশনে সময়ের বাধ্যবাধকতার মধ্যে আগের সরকারের ইস্যুকৃত কিছু অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। এতে কেউ কেউ অপপ্রচার শুরু করল যে বিএনপি নাকি জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কিংবা গণভোট মানে না। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, যে অধ্যাদেশে ভুলত্রুটি রয়ে গেছে, ভবিষ্যতে সত্যি যদি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ করতে হয়, তবে তা আরও ব্যাপক পর্যালোচনার দাবি রাখে। সোমবার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধনপূর্বক চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও আমরা চূড়ান্ত করেছি, যা আগামীতে সংসদে পাস করা হবে।”
জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যাদের সামান্যতম অবদানও ছিল, আমরা কাউকেই ভুলে যাইনি। কারও অবদান ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু আফসোস, যাদের ওপর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ছিল, তারা কেন মস্তিষ্কে গুলি লাগা ইনাম সিদ্দিকীকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বঞ্চিত রেখেছিল? এই উত্তর কে দেবেন?”
অনুষ্ঠানে ‘জুলাই যোদ্ধা সংগঠন’ যশোর জেলা শাখা কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি। জামায়াত নেতা আবুল হাশিম রেজা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা শাখার নেতা নুরুজ্জামানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুধীজন।