Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মনে হচ্ছে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ৫ আগস্ট,২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
মনে হচ্ছে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে এক গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। ছবি: ধ্রুব নিউজ

আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সব দেখে মনে হচ্ছে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে এক গণসমাবেশে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

গণসমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিপ্লব কোনো বয়স মানে না। যেমন চব্বিশের জুলাইয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, ১০ মাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ সবাই ছিল রাজপথে, আগামীতেও বয়স বিপ্লবকে সঙ্গ দিয়েই সামনে এগিয়ে যাবে। সেদিন সবাই হবে তরুণ, সবাই হবে যুবক। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আপসহীন, তীব্র। বিজয় ছিনিয়ে আনার লড়াই হবে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি; এটি ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি গণ–আন্দোলন। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের এবং নেতৃত্বের কৃতিত্ব তরুণ সমাজের। জুলাই আন্দোলনের একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেই। আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।

এ সময় শহীদদের নিয়ে রাজনীতি হোক, সেটি পছন্দ করেন না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শহীদেরা কোনো দলের নয়, জাতির সম্পদ। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারগুলোর সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, কার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের দাবিগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে, সেটি তাঁরা জানতে চান। এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে।সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব দাবি করেছিলেন, এখন সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করা হচ্ছে।’

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, তারা (সরকার) জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে। এ কারণে সরকারের অনেককে দেখলে জুলাই যোদ্ধারা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণভোটের প্রশ্নে প্রতিনিয়ত তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে তারা জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসবেন না। জীবনের বিনিময়ে হলেও এই দাবি আদায় করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আবারও ‘গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি’ ও ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে ফ্যাসিস্ট, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার বলতে চায়, মাত্র পাঁচ মাসেই জনগণ অস্থির হচ্ছে কেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন, পাঁচ মাসে জনগণের সঙ্গে এত বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো কেন? তিনি বলেন, ‘দেশের বারোটা বাজবে আর আমরা বসে বসে আঙুল চুষব?’

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘বিগত কয়েক মাস যাবৎ আমি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। আমাদেরকে এমন জায়গায় ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাবেন না, যেখান থেকে আপনাদের পতন শুরু হবে। গতকালের তিনটা জায়গায় যে হামলা হয়েছে, এটাই প্রমাণ করে আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় না।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের যেখানেই জুলুম হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। প্রয়োজনে আবার মাদ্রাসাগুলো থেকে ‘আবাবিল’ রাজপথে নেমে আসবে। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইলে শুরুতেই তা প্রতিরোধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, তারা যেন অতীতের সহিংস ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ থেকে ফিরে আসে। তা না হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ূম সুবহানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)