নিজস্ব প্রতিবেদক
রণজিৎ বাওয়ালী ছবি: সংগৃহীত
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী আর নেই। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলার নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
গত ১ জুলাই তিনি নিজ বাড়িতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (স্ট্রোকে) আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৫ জুলাই থেকে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, স্বজন, সহযোদ্ধা ও অসংখ্য আন্দোলনসঙ্গীকে রেখে গেছেন। আজ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় নওয়াপাড়া (অভয়নগর) মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
রণজিৎ বাওয়ালী যশোর অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট জননেতা, সমাজকর্মী ও স্বভাবকবি ছিলেন। তিনি মূলত ভবদহ এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের আন্দোলনের প্রধান অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নদী খনন ও তদারকিসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি ও সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কার্যক্রমগুলোতে তিনি স্থানীয় জনগণের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। টানা প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন।
তিনি ১৯৪৩ সালের ২ মার্চ অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আশুতোষ বাওয়ালী ও মাতা রঙ্গোবালা বাওয়ালী।
বুধবার সন্ধ্যায় অভয়নগর মহাশ্মশানে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, যশোর জেলা কমিটি, অভয়নগর উপজেলা কমিটি এবং ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি 'রেড স্যালুট' জ্ঞাপন করা হয়।
আন্দোলনের পাশাপাশি রণজিৎ বাওয়ালী ছিলেন একজন স্বভাবকবি ও লোকসংস্কৃতির ধারক। তার জীবন, সামাজিক আন্দোলন ও গানকে কেন্দ্র করে লেখক লিঠু মণ্ডল "কৃষ্টির ভূমিপুত্র রণজিৎ বাওয়ালী : জীবন ও গান" শিরোনামে একটি জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন, যা কলি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি 'সমগীত সম্মাননা ২০২৩' এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, যশোর পুরস্কারে ভূষিত হন।