নিজস্ব প্রতিবেদক
আত্মসমার্পনকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী ছবি: ধ্রুব নিউজ
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আরো দুই শিক্ষকের নাম গ্রেফতারি পরোয়ানা
জাল সনদে চাকরি করার মামলায় অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন শিক্ষক ইদ্রিস আলী। তবে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে সোজা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই মামলার অন্য তিন আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যশোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম এই আদেশ দেন। বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার মামলার নির্ধারিত দিনে শিক্ষক ইদ্রিস আলী আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। কিন্তু বিচারক তা নাকচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠান। অন্যদিকে, সমন পেয়েও আদালতে না আসায় সাবেক চেয়ারম্যান টিংকুসহ বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিক(কৃষি) সালেহা খাতুন।
কারাগারে যাওয়া ইদ্রিস আলী ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। তিনি শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক(বিপিএড) ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর সহযোগিতায় আসামিরা সহকারী শিক্ষক পদে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন এবং ২০১৫ সালে একটি মামলা করেন। তবে আসামি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু হওয়ায়, রাজনৈতিক প্রভাবে দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনায় বাধা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাদী পুনরায় মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ যশোরের এসআই বখতিয়ার রহমান ওই তিন শিক্ষকের সনদপত্র জাল এবং সাবেক চেয়ারম্যানের সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন।