বেনাপোল প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলে পারিবারিক কলহ ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে আসমা খাতুন (১৩) নামের এক কিশোরী মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
কিশোরনী আসমা খাতুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাবু গাজীর মেয়ে। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল গ্রামের দুখু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অস্থিরতার মধ্যে ছিল। এর মধ্যে আসমার বড় ভাই সাকিব কর্মসংস্থান ছাড়াই বিয়ে করেন। এরপর থেকে সংসারে কলহ ও আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে আসমার বাবা বাবু গাজী ছেলে সাকিব ও তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনাকে ঘিরে পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিকেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে নিজেকে শেষ করে দেয়ার পথে বেঁছে নেয় আসমা। ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে উদ্ধার তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিশাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। চাপ ও মানসিক অস্থিরতা সহ্য করতে না পেরেই কিশোরীটি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
খবর পেয়ে শার্শা থানা-পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।