মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
ণিরামপুর-রাজারহাট সড়কের আটমাইল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়ে নিহত মাহিম ও তার মোটরসাইকেল। ছবি: ধ্রুব নিউজ
আজ স্কুল বন্ধ থাকায় বাবার মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল দশম শ্রেণির ছাত্র মাহিম হোসেন (১৫)। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কে জানত! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছে সে। এমন মর্মান্তিক ও আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে মণিরামপুর-রাজারহাট সড়কের আটমাইল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত স্কুলছাত্র মাহিম হোসেন উপজেলার ভোজগাতী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সে কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মাহিমের বাবা সিরাজুল ইসলাম একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নূরনবী জানান, সকালে মণিরামপুর বাজার থেকে ফেরার পথে আটমাইল এলাকায় তিনি দেখেন, একটি দ্রুতগামী আরওয়ান-ফাইভ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল চালিয়ে এক কিশোর মণিরামপুরের দিক থেকে কুয়াদা বাজারের দিকে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে মোটরসাইকেলটি সড়কের পশ্চিম পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতায় চালকসহ মোটরসাইকেলটি শূন্যে ভেসে পাকা রাস্তার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সঞ্জয় দে বলেন, “নিহত মাহিম আমাদের প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ওর বাবা আমাদের প্রতিষ্ঠানেরই অফিস সহায়ক। স্কুল বন্ধের দিন হওয়ায় বাবার মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে মাহিমের এই মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।