সাহরিয়ার রাগীব
ফুটপাত দখল করেছে চা দোকানী, দোকানের ক্রেতারা দখল করেছে সড়ক। ছবিটি যশোরের রেলরোড চারখাম্বা থেকে তোলা ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাত এখন পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের হাঁটার জন্য তৈরি করা জায়গায় এখন রাজত্ব করছে অস্থায়ী চায়ের দোকান। বেঞ্চ পেতে বা টুল বসিয়ে গড়ে তোলা এসব দোকানের কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। ফলে বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শহরের দড়াটানা, পালবাড়ি, নিউমার্কেট ও সিভিল কোর্ট মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের অধিকাংশ জায়গা দখল করে আছেন চা-বিক্রেতারা। কেটলি, স্টোভ আর প্লাস্টিক চেয়ার বসিয়ে ফুটপাতকে কার্যত দোকানে রূপ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার ত্রিপল বা কাপড়ের সামিয়ানা টাঙিয়ে চালানো হচ্ছে চায়ের আড্ডা। দোকানের সরঞ্জাম আর বসার আয়োজনে ফুটপাত পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা সরাসরি সড়কে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।
যশোর সরকারি এম এম কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটা এখন অনেকটা অসম্ভব। চায়ের দোকানের ভিড় ঠেলে যাওয়া যায় না, বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়।”
পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য। ভারী যানবাহনের পাশ দিয়ে সড়ক ধরে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। চৌরাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা একজন সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভা ফুটপাত করেছে সাধারণ মানুষের জন্য, কিন্তু এখন সেগুলো চা-আড্ডার জায়গায় পরিণত হয়েছে। নারী ও শিশুদের নিয়ে এই পথ দিয়ে চলা এখন চরম বিড়ম্বনার।”
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদারেরা দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান না চালালে শহর যেমন তার সৌন্দর্য হারাবে, তেমনি জনভোগান্তি আরও প্রকট হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।