নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
যশোরের মণিরামপুরে যৌতুকের দাবিতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভস্থ সন্তান (ভ্রূণ) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) কেশবপুরের বেগমপুর গ্রামের বাদশাহ গাজীর মেয়ে ভুক্তভোগী জিম খাতুন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে মণিরামপুর থানার ওসিকে নিয়মিত মামলা (এজাহার) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন: ১. আবু সাঈদ (স্বামী) – পিতা: আরিজুল ইসলাম, গ্রাম: হাজরাকাঠি, মণিরামপুর। ২. আরিজুল ইসলাম (শ্বশুর) ৩. তাসলিমা খাতুন (শাশুড়ি) ৪. মুক্তা খাতুন (ননদ)
মামলার আরজি থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে আবু সাঈদের সাথে জিম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা জিমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতন সহ্য করেও জিম সংসার করছিলেন এবং তিনি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি যৌতুকের টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী আবু সাঈদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন জিমকে পৈশাচিক কায়দায় বেদম মারপিট করে। একপর্যায়ে তার পেটে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে কেশবপুরের একটি ক্লিনিকে এবং পরে যশোর আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, প্রচণ্ড আঘাতে জিমের গর্ভস্থ সন্তানটি মারা গেছে।
টানা কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে আদালতের দ্বারস্থ হন জিম। একজন নিরপরাধ অনাগত সন্তানকে হত্যার এই বিচার চান তার পরিবার ও এলাকাবাসী।