সাহরিয়ার রাগিব
জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তা ফাঁকা রেখে যাতায়াত নিশ্চিত করে ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো শহর যখন জনসমুদ্রে পরিণত, ঠিক তখনই এক অনন্য শৃঙ্খলার নজির দেখল যশোরবাসী। লাখো মানুষের ভিড় সামলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের পথ তৈরি করে দিয়ে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছে দলটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।
মঙ্গলবার সাপ্তাহিক কার্যদিবস হওয়ায় সকাল থেকেই অফিস-আদালত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। বিশেষ করে জনসভাস্থলের পাশের রাস্তাটি সরকারি এমএম কলেজে যাওয়ার প্রধান পথ এবং এই এলাকায় অসংখ্য কোচিং সেন্টার থাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনা থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঈদগাহ ময়দান ছাড়িয়ে মানুষের স্রোত যখন আশেপাশের সড়কে আছড়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের মনে ভোগান্তির শঙ্কা জেগেছিল।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। জামায়াতের শত শত স্বেচ্ছাসেবক রাস্তার দু-পাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে মাঝখানে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ফাঁকা রাখেন। লাখো মানুষের ভিড়ের মধ্যেও কোচিং ও কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। এমনকি জনসভার মাইক চলাকালীন সময়েও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় সাধারণ পথচারীরা স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
এমএম কলেজের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভেবেছিলাম আজ হয়তো কলেজে যাওয়াই যাবে না। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা যেভাবে ভিড় সরিয়ে আমাদের যাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছেন, তা সত্যিই অবাক করার মতো। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই আমরা যাতায়াত করতে পারছি।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণত জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে, কিন্তু আজকের এই সুশৃঙ্খল পরিবেশ এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দিল।