❒ যশোরে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা
বিশেষ প্রতিবেদক
রোববার সকালে জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান ঘোষণা দিয়েছেন যে, আসন্ন গণভোটে প্রশাসনের কোনো বিপক্ষ প্রার্থী নেই; বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমবেতভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করবেন। রোববার সকালে জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং সেখানে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ভয়হীন পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক জানিয়ে দেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আর কোনো সভা হবে না। উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা প্রত্যেকেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের বিভিন্ন কমিটিতে আপনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সবাই মিলে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দেব এবং গণভোটের প্রচারণায় অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠন করবো।”
এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের প্রচার ও জনসম্পৃক্ততার চিত্র শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের সভায় রুটিন কাজের চেয়ে নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি দপ্তরের কাজের অগ্রগতি ও কোনো সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভার একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক জানান, আগামী ২৫ জানুয়ারি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী। নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এবার প্রথাগত মেলা না হলেও সাগরদাঁড়ি ও কেশবপুরের নির্দিষ্ট স্থানে সাজসজ্জা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। কবির জন্মদিনে কেক কাটা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ‘মধুস্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রোজার ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে ‘মধুমেলা’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
নিরাপত্তা পর্যালোচনায় সভায় জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কার পাশাপাশি দেশজুড়ে ১৮৪ জন পেশাদার শুটার বিচরণ করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। যশোরেও তাদের অনুপ্রবেশের ঝুঁকি থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
শহরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে সভায় যানজট ও অবৈধ দখলমুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক পৌর প্রশাসককে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা, দণ্ড প্রদান ও অবৈধ মালামাল বাজেয়াপ্ত করার অভিযান শুরু হবে। এছাড়া ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সকল সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করা এবং ১ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উন্নয়নমূলক তথ্যের মধ্যে সভায় জানানো হয়, বেনাপোলে দেশের সর্বোচ্চ ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে, যেখানে উড্ডয়ন করা হবে বিশালাকার জাতীয় পতাকা। এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শুরু হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাফায়েত হোসেন, ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা পরিষদের সিইও এস এম শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, এনএসআই-এর যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।