ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: এ আই প্রণীত
ভাত হোক বা রুটি—বাংলাদেশে হাত দিয়েই খাবার খাওয়ার চল। তা দেখে অনেকেই নাক সিঁটকান। কেউ কেউ আবার স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে, আধুনিক জীবনধারায় গা ভাসিয়ে রেস্তরাঁয় তো বটেই, বাড়িতেও চামচ দিয়েই খাবার খান।
তবে গবেষণা বলছে অন্য কথা। নিজের হাতে খাবার তুলে খাওয়ার মধ্যে জড়িয়ে আছে অন্য রকম যোগসূত্র। আঙুলের ডগা যখন জিভ স্পর্শ করে মস্তিষ্কে সেই সঙ্কেত পৌঁছায়। খাবার হাতে নিয়ে খাওয়ার মধ্যে, অনুভবের জায়গাও বেশি থাকে। তা ছাড়া, খাওয়ার পরে রক্তে কতটা শর্করা মিশবে, তার কিছুটাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড ফুড সায়েন্স’ নামক জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, হাতে খাওয়ার গুণাগুণ জানার পরে, অনেকেই চামচের বদলে হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করেছেন।
হাত দিয়ে খাবার মাখার সময়ে আঙুল সচল থাকে। মনে হতে পারে, এটি হয়তো শুধুমাত্র আঙুলের কাজ। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, আঙুল দিয়ে খাবার মাখার সময়ে ওই হাত তো বটেই শরীরের বড় অংশেই রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া, আঙুল যখন ঠোঁট বা জিভ স্পর্শ করে মস্তিষ্কেও বিশেষ সঙ্কেত প্রেরিত হয়।
হাত দিয়ে খাবার তুলে ধীরে খেলে, পাচক রস নিঃসৃত হয় যথাযথ ভাবে। ফলে হজমও ভাল হয়।
· ধীরেসুস্থে খাবার খেলে, বিপাক হয় সঠিক ভাবে। হজমের সমস্যা কম হয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে ঠিক থাকে। দ্রুত কোনও কিছু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বেড়ে যেতে পারে।
· হাত দিয়ে খেলে, কতটা খাওয়া হচ্ছে সেই ব্যাপারেও সচেতনতা থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতাও কমে।
কোন সতর্কতা জরুরি
হাত দিয়ে খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ভাল করে ধুয়ে নেওয়া উচিত। নখের কোণেও যেন ময়লা না থাকে, সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, অপরিচ্ছন্ন হাত দিয়ে খেলে শরীরে নানা রকম রোগ বাসা বাঁধতে পারে।