ধ্রুব ডেস্ক
❒ শামসুজ্জামান ডাবলু ছবি: ধ্রুব নিউজ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর শামসুজ্জামান ডাবলু (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত ডাবলু জীবননগর পৌর এলাকার বসুতি পাড়ার মৃত আতাউর মাস্টারের ছেলে। তিনি জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে তাকে নেওয়া হয় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মধ্যরাত থেকে জীবননগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক সময় নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্যাতন চালানোর এক পর্যায়ে মারা যান তিনি। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তারা।
এদিকে বিএনপি নেতার মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। এ সময় তিনি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি আইন নিজেরদের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর বলেন, ‘ডাবলু আমার দলীয় ভাই। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি পক্ষকে খুশি করা এবং তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যমে তাকে হত্যা করাটা ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ সমকালকে বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় আটক বিএনপি নেতা ডাবলু মারা গেছেন। এই ঘটনায় আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’