শেখ জালাল
❒ তানযীমুল উম্মাহ প্রি-হিফয মাদ্রাসার পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ছবি: ধ্রুব নিউজ
শীতের সকালে যশোরের তানযীমুল উম্মাহ প্রি-হিফয মাদ্রাসায় এক ব্যতিক্রমী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের রেলগেট তেঁতুলতলা শাখায় কুরআন হিফজরত একঝাঁক খুদে শিক্ষার্থী এই উৎসবে মেতে ওঠে।
মাদ্রাসার ভেতরে সারিবদ্ধ স্টলগুলোতে সাজানো ছিল বাঙালির চিরচেনা হরেক রকমের পিঠা। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, নকশী পিঠা থেকে শুরু করে লবঙ্গ লতিকা— বাদ ছিল না কিছুই। ধোঁয়া ওঠা গরম পিঠা আর খেজুর গুড়ের মিষ্টি সুবাসে শহরের যান্ত্রিকতার মাঝেও যেন এক টুকরো গ্রামের আবহ তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিনের কুরআন হিফজের কঠোর পরিশ্রমের মাঝে এমন একটি আনন্দঘন দিন শিক্ষার্থীদের মনে নতুন সজীবতা এনে দেয়। উৎসবে অংশ নিয়ে খুদে শিক্ষার্থী শেখ জাওয়াদ জাফি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, ‘মাদ্রাসায় বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খেতে আমাদের খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই মিলে কোনো পিকনিকে এসেছি।’
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মূলত শিক্ষার্থীদের মনকে প্রফুল্ল করতে এবং বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। তানযীমুল উম্মাহ প্রি-হিফয মাদ্রাসার শাখা প্রধান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং নিজেদের শেকড়কে চেনা অত্যন্ত জরুরি। আজকের শিশুরা যাতে ফাস্টফুড ছেড়ে আমাদের দেশীয় স্বাস্থ্যকর পিঠা-পুলির স্বাদ চিনতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা এই আয়োজন করেছি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর এম এ রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর শাখাসমূহের প্রধান হা. আজমল হোসাইন, মো: আসাদুজ্জামান, শাহীন মাহমুদ ও মাহমুদুল হাসান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা বিল্লাল হোসাইন।