Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

যশোরে নির্বাচনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় থাকছে প্রযুক্তির ব্যবহার

❒ সাড়ে তিন হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন, আসবে আরো ১৮০০

বিশেষ প্রতিবেদক বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ১১ জানুয়ারি,২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১২ জানুয়ারি,২০২৬, ০৭:১১ পিএম
যশোরে নির্বাচনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় থাকছে প্রযুক্তির ব্যবহার

ছবি: প্রতীকী

যেকোনো মূল্যে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। কাউকেই ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করা বা জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। রোববার যশোর কালেক্টরেটের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এ মাসিক সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাতে চলছে বিভিন্ন অভিযান। সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে শনিবার বিকেলে একযোগে সারা জেলায় যানবাহন তল্লাশি করা হয়। এদিন বিকেলে যশোরে ৫৪টি চেকপোস্ট বসিয়ে ৫০৪টি চার চাকার গাড়ি ও এক হাজার ৪৭০টি মোটরসাইকেল মালিককে মামলা দেয় পুলিশ। বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং মামলা দেওয়া হয় বলেও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জানানো হয়। অভিযান অব্যাহত রাখা হবে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যেসব পদক্ষেপ দরকার তার সব করা হবে বলেও জেলা প্রশাসক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান। তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, জেলা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ৬টি করে সিসি ক্যামেরা লাগাতে অন্তত সাড়ে ৫ হাজার ক্যামেরা দরকার। ইতোমধ্যে জেলার নিজস্ব ব্যবস্থায় সাড়ে ৩ হাজার ক্যামেরা লাগানো হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আরও অন্তত ১৮শ ক্যামেরা চাওয়া হয়েছে। যশোর পৌরসভার ৪৭টি কেন্দ্রের বেশিরভাগে পৌর কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা লাগিয়েছে। এ সময় তিনি সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। কেন্দ্রগুলোতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত এখন থেকে শিক্ষার্থী ও পর্যটক যারা অফিশিয়াল কাজ ছাড়া আসেন, তাদের জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। ১২ জানুয়ারি থেকে জেলায় অন্যান্য বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনী পূর্ণরূপে কাজ করবে যেন কোনোভাবেই নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত না হয়। প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থেকে নির্বাচনী পরিবেশ ফেরাতে কাজ করবে যাতে কেউ ভয়ভীতি না দেখাতে পারে এবং নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করতে না পারে।

সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মেজর মারুফ জানান, সীমান্তবর্তী চৌগাছা ও শার্শা উপজেলা ব্যতীত প্রতি উপজেলায় সেনাক্যাম্প থাকবে। এক-একটি ক্যাম্প থেকে একই সময়ে দুটি টিম অভিযান চালাতে সক্ষম। কোথাও সেনাবাহিনীকে ডাকা মানেই হলো সেখানে ‘ফোর্স অ্যাপ্লাই’ করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যত কঠোরতা দরকার ততটা করা হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, অস্ত্র উদ্ধারসহ শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন বাহিনী কাজ করছে। এদিন (রোববার) সকালেও র‌্যাবের অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ২টি বিদেশি পিস্তলসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র বাইরে থেকে আসছে। শার্শায় ককটেল তৈরি করতে গিয়ে একজন আহত হয়ে ঢাকায় গোপনে চিকিৎসাধীন। এনএসআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি দলের পক্ষ থেকে এই ককটেল তৈরি করানো হচ্ছিল। ইতোমধ্যে কে টাকার জোগানদাতা, কার নির্দেশে এসব তৈরি হচ্ছিল—তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসেছে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, কোনো কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, যশোরে পরপর দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ব্যবসা জড়িত। টার্গেট কিলিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যুবদল নেতা হত্যার বিষয়ে আসামি আটক করা হয়েছে। মণিরামপুরের বিষয়টি সেনসেটিভ হওয়াতে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক, অস্ত্র, বিশেষ করে ককটেল আমাদের জন্য হুমকি। আমরা আশা করছি ভোটের আগে সবকিছু ঠিক থাকবে। ভোটের সময় ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। অধিক ঝুঁকির এলাকায় অনলাইনে কানেক্ট থাকবে বডি ক্যামেরা, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে প্রশাসন।

নির্বাচনী এসব বিষয় ছাড়া জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এ সভার পুরো সময়টা ছিল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখল প্রতিরোধে ইতোমধ্যে গৃহীত ব্যবস্থা ও আগামীতে করণীয় দিক নিয়ে আলোচনা। অভিযানে শহরের ফুটপাত দখল উচ্ছেদ করার পরের দিন আবার বসছে হকাররা; রাস্তার পাশে দোকানদাররা এবং নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাস্তা দখল, সকালে বড় বড় ট্রাক ঢুকে মালামাল লোড-আনলোড করায় যানজট তীব্র হচ্ছে প্রভৃতি ছিল আলোচনায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় সভা থেকে। এ সময় পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন থেকে প্রতিদিন বিকেলে অভিযান চলবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অভিযান চালালে অনেকেই সুপারিশ করেন, ‘গরিবের পেটে লাথি মারা হচ্ছে’ বলে সমালোচনা করেন; আবার চলাচলে বিঘ্ন হলেই তারাই সমালোচনা করেন যে পৌরসভা কোনো কাজ করছে না। তারপরও অভিযান চলবে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেছেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যশোরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সকল দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল, ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজসহ সেনাবাহিনী, ৪৯ বিজিবির উপপরিচালক সোহেল হোসেন, র‌্যাব ও আনসার কমান্ড্যান্টের প্রতিনিধিগণ।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)