❒ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ করবে ১১ দল
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ রোববার (১১ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার যদি গণবিরোধী ভূমিকার অপরিণামদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে ফিরে না আসে, তবে দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। জুলাই সনদের চেতনা ও জনগণের রায়কে অস্বীকার করে যে সংকটের সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা পার্লামেন্টে সমাধানের পথ বাদ দিয়ে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কর্মসূচি দিচ্ছি। লংমার্চের মাধ্যমে সরকারের বোধদয় হবে বলে আশা করি আমরা। সরকার সঠিক পথে ফিরে আসুক।”
বিরোধী দলের কর্মসূচি কিভাবে ও কেন করতে হয়; সেটা বিরোধী দলে থাকলেই বোঝা যায়। সরকারের চেয়ারে থাকলে সেটা বোঝা যায় না। রাজনীতিতে যখন রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করা যায় না, তখনই এসব অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেন রাজনীতিবিদরা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (যশোর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর অঞ্চল) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
‘১১ দলের লং মার্চে পতিত সরকার ফিরে আসবে’—এমন বক্তব্য ‘নতুন ন্যারেটিভ বা অজুহাত তৈরি করছে সরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকার বারবার ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ন্যায্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনটাকে থামিয়ে দিতে এবং অন্যদিকে নজর ঘোরাতে ভিন্ন পরিকল্পনা করছে। এই জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। ভয় দেখিয়ে জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করার বাহানা করছে সরকার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক, সমস্ত জায়গায় দলীয় লোকদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদের লোক ছাড়া কেউ সারের ডিলার পায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। শাসকদল যারা শাসন করে, জনগণের কাছে যারা ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করে; তারা লং মার্চের প্রয়োজন বুঝবে না। বিরোধী দলের কর্মসূচি কিভাবে ও কেন করতে হয়; সেটা বিরোধী দলে থাকলেই বোঝা যায়। সরকারের চেয়ারে থাকলে সেটা বোঝা যায় না। রাজনীতিতে যখন রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করা যায় না, তখনই এসব অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেন রাজনীতিবিদরা।
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এদিন প্রায় ১ হাজার গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মাসেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। প্রায় ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ এই পথযাত্রায়– মিডিয়াকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খুলনায় পুলিশের একা চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হলে পুলিশকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’ তালবাহানা ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা না বলে আইনশৃঙ্খলার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা রাজপথে নামতে চাইনি, সরকার আমাদের নামতে বাধ্য করছে। বিগত দিনে ১১ দলীয় জোটের অধীনে দুটি লং মার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের লং মার্চও একইভাবে শান্তিপূর্ণ থাকবে। লং মার্চের কারণে সাময়িক যাতায়াত ও চলাচলে যে ভোগান্তি হতে পারে, সে জন্য ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ী, পথচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এদিন প্রায় ১ হাজার গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মাসেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। প্রায় ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ এই পথযাত্রায়– মিডিয়াকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, যশোরের মুরলি মোড়ে পথসভা ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ১২ ঘণ্টার এ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, খুলনা ও ফরিদপুর অঞ্চলের পরিচালক, খুলনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুল আজিজ, এমপি আজিজুর রহমান, যশোর জেলা আমির গোলাম রসূল এমপি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, গাজী এনামুল হক এবং ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর জামায়াতের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।