❒ যশোরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিস্টদের বিচার দাবিতে যশোরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
“জুলাই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়, এটি এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের প্রতীক। এই আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর মূল চালিকাশক্তি ছিল সাধারণ মানুষ, তাই বিজয়ের সব কৃতিত্ব জনগণেরই”— যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
‘গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সহ তার দোসরদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে’ যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগম ঘটে।
যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি)।
প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী (এমপি)।
এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, গত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের স্পষ্ট রায় দিয়েছে। যারা সংসদের ভেতরে বা বাইরে হুমকি ও সমালোচনা করছেন, তাদের রাজনৈতিক সংঘাত ভুলে দেশ পুনর্গঠন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকারের পতনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সেই সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় এবং ‘আয়না ঘর’-এর মতো নির্যাতনকেন্দ্রে বছরের পর বছর বন্দি রেখে নির্যাতন চালানো হয়।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা নানা মাধ্যমে আবারও ফিরে আসার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে, যা রাজপথে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।
তারা উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে নতুন সরকারকে নির্বাচিত করেছে। দেশের মানুষ তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ওপর আস্থা রেখেছে; তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং উন্নয়ন ও সুশাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন।
সমাবেশ থেকে "বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে নিহত যশোর জেলা বিএনপির তৎকালীন নেতা নাজমুল ইসলাম ও আবদার ফারুকসহ অন্যান্য নেতাকর্মী এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের স্মরণে ও তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুকরণ, যশোর হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গকরণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।