নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ সকালে যশোর শহরে শিবির বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে ছবি: ধ্রুব নিউজ
শুক্রবার সকালে যশোরের রাজপথে শোনা যায় এক সুশৃঙ্খল পদধ্বনি। লাল-সবুজের পতাকার মিছিল জানান দেয়—আজকের দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়, বরং একটি দীর্ঘ পথচলার মাইলফলক। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ যশোর ছিল এক তপ্ত যৌবনের নগরী।
সকাল থেকেই দল বেধে ছাত্ররা জড়ো হতে থাকেন যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। স্কুল পড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্র—সবার চোখেমুখে ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। সকাল গড়াতেই ঈদগাহ ময়দান যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেখান থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য র্যালিটি যখন শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছিল, তখন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ দেখছিল এক সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক তারুণ্যের মহড়া।

র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ধ্রুব নিউজ
র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত যশোর-০৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ৪৯ বছরের এই সংগ্রাম কেবল টিকে থাকার নয়, বরং একটি শিক্ষিত ও নৈতিক প্রজন্ম গড়ার। আমাদের ছাত্ররা কেবল বইয়ের পাতায় নয়, বরং কর্মক্ষেত্রেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে। তিনি বলেন, কেবল ডিগ্রি অর্জন নয়, ছাত্রজীবন থেকেই পরকালীন সফলতার পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। নৈতিকতা আর পেশাদারিত্বের সমন্বয়েই আগামীর বাংলাদেশ বদলে যাবে। ১২ তারিখের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করার আহবান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিবিরের সাবেক শহর সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক শামসুজ্জামান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে এই মেধাবীরাই হবে মূল কারিগর।
যশোর শহর শাখা সভাপতি আহমেদ ইব্রাহিম শামিম সভাপতির বক্তব্যে, আধিপত্যবাদ ও দাসত্বমুক্ত স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার ঘোষণা দেন।
র্যালিটি যখন মণিহার চত্বরে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়, তখন সাধারণ পথচারীদের সাথে কথা বলে পাওয়া যায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। অনেক পথচারীই মন্তব্য করেন, বর্তমান অস্থির সময়ে ছাত্রদের এমন সুশৃঙ্খল আচরণ ও দেশ গড়ার প্রত্যয় সত্যিই আশাব্যঞ্জক। তাদের মতে, দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে এই তরুণরাই হতে পারে নিরাপদ ও দক্ষ নাবিক।
শহর সেক্রেটারি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর জামান ও অর্থ সম্পাদক আবু হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সফল কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়।
৪৯ বছরের এই পথচলায় ছাত্রশিবির নিজেকে কেবল একটি ছাত্র সংগঠন নয়, বরং একটি আদর্শিক পাঠশালা হিসেবেই প্রমাণের চেষ্টা করছে—যশোরের আজকের এই জনসমুদ্র যেন সেই বারতাই দিয়ে গেল।