ধ্রুব ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠন নিয়ে বিএনপির অভিযোগকে ‘অসুস্থতার লক্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেছেন, ‘এই সমস্ত আজগুবি অভিযোগ কোনো সুস্থ মাথা থেকে আসতে পারে না। কোনো সুস্থ দল বা লোক এই ধরনের অভিযোগ করতে পারে না। একদল লোক জনগণের বিপুল সমর্থন দেখে ভীত হয়ে এই সমস্ত কথা বলছে। এটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। আমরা তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করি।’
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দেশের বিভিন্নস্থানে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব বলেন। এ সময় তার সঙ্গে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান এবং জামায়াতের মহিলা শাখার নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ বিষয়ে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা কোথায় কী করি, তা আপনারা দেখেন। আমাদের কোনো প্রচারণাই রাতের অন্ধকারে নয়, দিনের আলোতেই হয়। আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদিন জেলা সফর করছেন। ইতিমধ্যে তিনি ৩৫টি জেলা সফর করেছেন এবং সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। সবই স্পষ্ট। আমাদের নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলরাও যাচ্ছেন। এই সমস্ত কথা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি অপপ্রয়াস মাত্র। এটি মোটেই সঠিক নয়।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নারী কর্মীরা যখন ভোটের জন্য বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায় মানুষের বাড়িতে যাচ্ছেন বা নির্বাচনে কাজ করছেন, তখন একদল লোক তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার-নির নির্যাতন করছে। সাইবার বুলিং হচ্ছে, শারীরিক নির্যাতন করছে, তাদের হিজাব এবং নেকাব খুলে ফেলছে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এই বিষয়গুলো আমরা স্থানীয়ভাবেও জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যারা আছেন এবং ইলেক্টরাল কমিটিতে যারা আছেন, তাদেরও জানানো হয়েছে। যেহেতু রিপিটেডলি ঘটনাগুলো ঘটছে এবং এর কারণে বাংলাদেশের নারী সমাজ খুব উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত, তাই আমরা এখানে এসেছি। একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সুন্দর পরিবেশ দরকার। আমাদের ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকই নারী এবং তাদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।’
জামায়াতের আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা দলের পক্ষ থেকে সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে অলরেডি কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিয়েছি; ফিজিক্যালিও জমা দেব।’
তিনি বলেন, ‘এই ইস্যু নিয়ে একদল লোক কিছু কর্মসূচি দিয়েছে। আমরা মনে করি এগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে নিশ্চয়ই। এই ধরনের ঘৃণিত কাজ কোনো দলই করবে না—এটা আমাদের প্রত্যাশা। আমরা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করি। প্রতিযোগিতা থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু এই ধরনের হীন তৎপরতা বন্ধ হবে—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
শীর্ষ পদে আসা থেকে নারীর অধিকার আদায় গুরুত্বপূর্ণ
এ সময় শীর্ষ পদে নারী আসার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা- বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন এবং এটি ইসলাম মেনে চলবে—এটাই স্বাভাবিক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, পুরুষ হচ্ছে নারীদের পরিচালক। এটি কোরআনের নির্দেশ এবং ফরজ। সেই হিসেবে কোনো ইসলামী সংগঠনে নারীরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারে না। আমরা এটা মেনেই ঈমান এনেছি এবং চলছি। সুতরাং শীর্ষ পদে নারী আসাটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা। আপনারা দেখছেন বাংলাদেশে গত ৫৪ বছরে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ছিলেন, কিন্তু নারীদের সমস্যার কি সমাধান হয়েছে? সহিংসতা কি কমেছে? অধিকার কি আদায় হয়েছে? শুধু নারী শীর্ষ পদে থাকলেই সব হয়ে যাবে—কথাটা ঠিক না। বরং নারী হোক আর পুরুষ হোক, যিনি মানবিক হবেন এবং মর্যাদা দেবেন, আমরা তেমন নেতৃত্ব চাই। এজন্য শীর্ষ পদে আসা আমরা জরুরি মনে করি না।’
জামায়াতের মহিলা শাখার প্রধান ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ নারী। এই নির্বাচনে আমরা সবাই সাহসের সঙ্গে এবং ভালো পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে চাই। গত ১৫-১৬ বছরে আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি, তাই এই নির্বাচন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ৫০ শতাংশ নারী ভোটার, তাই আমাদের বোনদের প্রতিহত করার জন্য একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে আমি মনে করি। আপনারা জানেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আমাদের সংগঠনে ৪৩ শতাংশ নারী রিপ্রেজেন্টেটিভ আছে। আমাদের অ্যাডভাইজারি কমিটি এবং এক্সিকিউটিভ কমিটিতে ৪০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব করছি। সুতরাং এই অর্গানাইজেশন নারীদের মূল্য ও সম্মান দিচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামীর কোনো নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনো নারীর এমপাওয়ারমেন্টের ব্যাপারে প্রতিবন্ধক নয়। আমরা প্রিপেয়ার হচ্ছি। আমাদের অ্যাডভাইজারি কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এবার আমরা কোনো নারী ক্যান্ডিডেট দেব না। তবে লোকাল নির্বাচনে আমাদের বোনেরা রুরাল এরিয়াতে পার্টিসিপেট করেছে, সেই ডাটা আপনাদের কাছে আছে। নেক্সট নির্বাচনে আমরা অবশ্যই পার্টিসিপেট করব। এই নির্বাচনে আমরা নারীরা অ্যাক্টিভলি কাজ করছি বলেই বাধা আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, সে ব্যাপারে কেউ অজ্ঞাত নন। আমরা সেই প্রতিবাদ করার জন্য এবং সমস্ত বাংলাদেশের মা-বোনদের পক্ষ থেকে এখানে ছুটে এসেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। বিভিন্ন জায়গার অনেকগুলো ইনসিডেন্সের ডকুমেন্টসহ আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি।’
কয়টি হামলার তথ্য দিয়েছেন- জানতে চাইলে ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখানে টোটাল ১৫টি জায়গার তথ্য ডকুমেন্টসহ দিয়েছি। ছবি এবং ভিডিওসহ সাবমিট করেছি। এছাড়া আরও অনেক ঘটনা আছে। সিইসি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং এ ব্যাপারে পজিটিভ অ্যাটিটিউড দেখিয়েছেন। তিনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।’