Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শ্রমিকের রক্ত ও ঘামেই সভ্যতার অগ্রযাত্রা

বজলুর রহমান বজলুর রহমান
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ মে,২০২৬, ০৭:৩৫ এ এম
শ্রমিকের রক্ত ও ঘামেই সভ্যতার অগ্রযাত্রা

ন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক স্মারক। প্রতি বছর ১লা মে এই দিবসটি পালিত হয়, যা শুধু একটি উৎসব নয়—বরং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

উনিশ শতকের শেষভাগে শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় কারখানাভিত্তিক উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এর সাথে সাথে শ্রমিকদের ওপর শুরু হয় চরম শোষণ। শ্রমিকদের দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো, কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ন্যায্য মজুরি বা নিরাপদ কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা ছিল না। নারী ও শিশুরাও একইভাবে শোষণের শিকার হতো।
এই অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সংগঠিত হতে শুরু করে। তাদের প্রধান দাবি ছিল—
“আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, আট ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবন”।

শিকাগোর হে-মার্কেট ঘটনা (Haymarket Affair)

১৮৮৬ সালের ১লা মে, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে হাজার হাজার শ্রমিক আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করে। ৩ মে ম্যাককরমিক হারভেস্টার কারখানার সামনে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৪ মে হে-মার্কেট স্কোয়ারে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, কিন্তু হঠাৎ একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই পুলিশ গুলি চালায়। এতে পুলিশ ও সাধারণ শ্রমিক উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যারা পরবর্তীতে “হে-মার্কেট শহীদ” হিসেবে পরিচিত হন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মে দিবসের তাৎপর্য

১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসে ১লা মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই বিশ্বব্যাপী শ্রমিকরা এই দিনটি পালন করতে শুরু করে।

মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
শ্রমিকদের অধিকার সহজে অর্জিত হয়নি; এটি রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত।
ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মানবিক আচরণ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।
সমাজ ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই শ্রমিকদের জন্য আইনগত সুরক্ষা থাকলেও, বাস্তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন—বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বাংলাদেশেও গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বর্তমান বিশ্বে শ্রমিকদের উপর চলমান নানা ধরনের নির্যাতন ও বৈষম্যের চিত্রও সামনে তুলে ধরে। প্রযুক্তি ও উন্নয়নের যুগেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকরা অধিকার বঞ্চিত-


১. কম মজুরি ও মজুরি বঞ্চনা
অনেক দেশেই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পায় না। বিশেষ করে গার্মেন্টস, কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় কাজ করেও ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহের মতো আয় হয় না। কোথাও কোথাও মাসের পর মাস বেতন আটকে রাখা হয়।


২. অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের অভাব
অনেক শ্রমিককে দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়, অথচ পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ছুটির সুযোগ থাকে না। এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।


৩. শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো শিশুশ্রম একটি বড় সমস্যা। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। এছাড়া কিছু অঞ্চলে জোরপূর্বক শ্রম (forced labor) বা আধুনিক দাসত্ব এখনো বিদ্যমান।


৪. কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা
অনেক কারখানা ও নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। ফলে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা ভবন ধসের মতো ঘটনা ঘটে, যেখানে শ্রমিকরা প্রাণ হারায় বা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যায়।


৫. নারী শ্রমিকদের বৈষম্য ও হয়রানি
নারী শ্রমিকরা সমান কাজের জন্য কম মজুরি পায়, পদোন্নতিতে বঞ্চিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়। মাতৃত্বকালীন সুবিধাও অনেক জায়গায় নিশ্চিত নয়।


৬. ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার খর্ব
অনেক দেশে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে পারে না। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন বা আন্দোলন করলে চাকরি হারানো, গ্রেফতার বা হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।


৭. অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসী শ্রমিকরা প্রায়ই পাসপোর্ট জব্দ, কম মজুরি, অমানবিক বাসস্থান ও নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের আইনি সুরক্ষা খুবই দুর্বল থাকে।

৮. অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা
বিশ্বের একটি বড় অংশের শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে, যেখানে কোনো চাকরির নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যসেবা বা সামাজিক নিরাপত্তা নেই।
শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস শুধু ১লা মে বা শিকাগোর হে-মার্কেট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যা আজকের শ্রম অধিকার ব্যবস্থাকে গঠন করেছে।

 এখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু আন্দোলনের ধারাবাহিক চিত্র উল্লেখ করছি-


১. ব্রিটেনের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন (১৮শ–১৯শ শতক)
শিল্পবিপ্লবের সময় শ্রমিকদের উপর চরম শোষণের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে প্রথম সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে সরকার এসব সংগঠন নিষিদ্ধ করলেও পরবর্তীতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে ইউনিয়নের স্বীকৃতি আসে।


২. চার্টিস্ট আন্দোলন (Chartist Movement, ১৮৩০–১৮৪০ দশক)
এটি মূলত রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন হলেও শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। তারা ভোটাধিকার, ন্যায্য প্রতিনিধিত্বসহ বিভিন্ন দাবি তোলে, যা পরবর্তীতে শ্রমিকদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান উন্নত করতে সহায়তা করে।


৩. আট ঘণ্টা কর্মদিবস আন্দোলন (Eight-Hour Day Movement)
যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে শ্রমিকরা “৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত সময়” এই দাবিতে আন্দোলন করে। এই আন্দোলনের ফলেই ধীরে ধীরে অনেক দেশে কর্মঘণ্টা সীমিত করা হয়।


৪. রাশিয়ার শ্রমিক বিপ্লব (১৯০৫ ও ১৯১৭)
রাশিয়ায় শ্রমিকদের ধর্মঘট ও আন্দোলন জার শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতায়নের ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।


৫. যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ডিল শ্রম সংস্কার (১৯৩০-এর দশক)
মহামন্দার সময় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা হয়—যেমন ন্যূনতম মজুরি, সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা।

৬. দক্ষিণ আফ্রিকার খনি শ্রমিক আন্দোলন
বর্ণবৈষম্যের সময় কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকরা অত্যন্ত কম মজুরি ও অমানবিক অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এই আন্দোলন পরবর্তীতে এপারথাইড বিরোধী সংগ্রামকে শক্তিশালী করে।

৭. লাতিন আমেরিকার শ্রমিক আন্দোলন
আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি প্রভৃতি দেশে শ্রমিকরা সামরিক শাসন ও কর্পোরেট শোষণের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ও গণআন্দোলন গড়ে তোলে, যার ফলে শ্রম আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।

৮. পোল্যান্ডের ‘সোলিডারিটি’ আন্দোলন (১৯৮০-এর দশক)
লেখ ভাওয়েন্সার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই শ্রমিক আন্দোলন শুধু শ্রম অধিকার নয়, বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৯. এশিয়ার গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক আন্দোলন
বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইন প্রয়োগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর এসব আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে।

১০. আধুনিক ‘গিগ ইকোনমি’ শ্রমিক আন্দোলন
উবার, ফুড ডেলিভারি ইত্যাদি খাতে কর্মরত শ্রমিকরা এখন ন্যায্য পারিশ্রমিক, চাকরির নিরাপত্তা ও আইনি স্বীকৃতির দাবিতে বিশ্বজুড়ে সংগঠিত হচ্ছে।

শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণে ইসলামের অবদান

ইসলাম শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এক অনন্য ও সুসমন্বিত আদর্শ প্রদান করেছে, যা কেবল অর্থনৈতিক দিক নয়—মানবিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও শ্রমিককে সম্মানিত করেছে। নিচে ইসলামের এই সুমহান আদর্শগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

১. মানবিক মর্যাদার স্বীকৃতি
ইসলামে প্রতিটি মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। শ্রমিক হওয়া কোনো হীনতা নয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমাদের কর্মচারীরা তোমাদের ভাই।” (সহিহ বুখারি)
*অর্থাৎ শ্রমিককে অধীনস্ত নয়, বরং সমমর্যাদার মানুষ হিসেবে দেখা হয়েছে।


২. ন্যায্য ও দ্রুত মজুরি প্রদান
ইসলাম শ্রমিকের পারিশ্রমিক বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর—
হাদিস: “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো।”
*এতে বোঝা যায়, দেরি করা বা বঞ্চনা করা গুরুতর অন্যায়।

৩. কাজের ন্যায্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব
শ্রমিককে তার সামর্থ্যের বাইরে কাজ দিতে নিষেধ করা হয়েছে
অতিরিক্ত কষ্ট বা জুলুম করা হারাম
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না যা তারা বহন করতে পারে না; আর যদি দাও, তবে তাদের সাহায্য করো।”

৪. সদাচরণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ
শ্রমিকের সঙ্গে কঠোর বা অপমানজনক আচরণ নিষিদ্ধ
সম্মান, দয়া ও সহানুভূতির সাথে আচরণের নির্দেশ
*এটি কর্মক্ষেত্রে একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করে।

৫. শোষণ ও জুলুমের কঠোর নিষেধাজ্ঞা
অন্যায়ভাবে শ্রমিকের হক নষ্ট করা বড় গুনাহ
কিয়ামতের দিন এর কঠিন জবাবদিহি করতে হবে
হাদিসে এসেছে- “তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমি কিয়ামতের দিন নিজেই বাদী হবো… তার মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে শ্রমিককে কাজ করিয়ে তার মজুরি দেয়নি।”

৬. চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা

কাজ শুরুর আগে মজুরি ও শর্ত পরিষ্কার করা
চুক্তিভঙ্গ কঠোরভাবে নিন্দিত
*এতে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

৭. বিশ্রাম ও কল্যাণের অধিকার

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা
খাদ্য, বস্ত্র ইত্যাদিতে বৈষম্য না করা

সবশেষে বলা যায়, “শ্রমিকের রক্ত ও ঘামেই সভ্যতার অগ্রযাত্রা”—এটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং মানবসভ্যতার চিরন্তন সত্য। যে সমাজ শ্রমিকের অধিকারকে উপেক্ষা করে, সে সমাজ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে; আর সেই অর্জন রক্ষা ও বাস্তবায়ন করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রার মাঝেও যদি শ্রমিক বঞ্চিত থাকে, তবে সেই উন্নয়ন অসম্পূর্ণ ও অমানবিক। তাই রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি—সকল স্তরে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সম্মানজনক আচরণ এবং সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের শিখায়—শ্রমিকের প্রতি ন্যায়, দয়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রদর্শনই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়।

মে দিবস আমাদের নতুন করে অঙ্গীকার করার দিন—শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের। আসুন, আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলি যেখানে শ্রমিক কেবল উৎপাদনের যন্ত্র নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান লাভ করে। তবেই প্রকৃত অর্থে মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা হবে অর্থবহ ও কল্যাণময়।

এই লেখকের আরও লেখা-

ঐতিহাসিক চেতনা, মূল্যবোধ ও আমরা ঐতিহাসিক চেতনা, মূল্যবোধ ও আমরা ধর্ষিত শিশুর চিৎকারে হেরে যায় বাংলাদেশ ধর্ষিত শিশুর চিৎকারে হেরে যায় বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক সবার ব্যাংক: ৪৩ বছরের গৌরব ও আস্থার অভিযাত্রা ইসলামী ব্যাংক সবার ব্যাংক: ৪৩ বছরের গৌরব ও আস্থার অভিযাত্রা দেশে দেশে ঈদের ভিন্ন মাত্রা দেশে দেশে ঈদের ভিন্ন মাত্রা

লেখক: কলামিস্ট ও ব্যাংকার

*মতামত লেখকের নিজস্ব

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)