উজ্জ্বল বিশ্বাস
এখন কেবলই স্মৃতি ছবি: ফেবু থেকে নেওয়া
কদিন আগেই তার একটা প্রোগ্রামে ছিলাম। সেখানেই কথা হলো। টেনে ধরে মুখে মিষ্টি খাইয়ে দিলেন আর বললেন "তোদের সজাগ হতে হবে ভাইডি উজ্জ্বল" তাহলে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব। তাছাড়া আমাদের তো বয়স হচ্ছে। আগের মত শরীরটা আর ভালো সিগন্যাল দেয় না।
সর্বশেষ ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাঘারপাড়ার দরাজহাট ইউনিয়নের দাঁদপুর বাজারে একটি নির্বাচনী সভায় দর্শক সারিতে ছিলাম। মনে হচ্ছিল তার শরীরের অবস্থা ভালো না। পরে শুনলাম ওই দিন রাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই দিন খানিকটা সময় কথাও হয়েছিল নানা বিষয়ে। বলছিলাম যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রাজনীতিবিদ #আবু তাহেরসিদ্দিকীর কথা।
আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন বাঘারপাড়ার রাজনীতির এক অবিসংবাদিত নেতা এবং 'কিংমেকার' হিসেবে পরিচিত। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তিনি কেবল একজন নেতাই ছিলেন না, বরং রাজনৈতিক কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রজ্ঞা ছিল অতুলনীয়। স্থানীয় রাজনীতিতে যেকোনো সংকটকালীন মুহূর্তে তার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তিনি যশোর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা সম্প্রতি (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান কর্তৃক প্রত্যাহার করে তাকে সসম্মানে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আবু তাহের সিদ্দিকীর প্রয়াণে শোকগাথা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রাজনীতির এক বটবৃক্ষ, মাটি ও মানুষের নেতা আবু তাহের সিদ্দিকী আজ শুক্রবার ইহকাল ত্যাগ করেছেন। তার এই প্রস্থান বাঘারপাড়ার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন একজন জ্ঞানদীপ্ত ও আদর্শবান মানুষ। তার শিক্ষাজীবনের সততা ও নৈতিকতাকে তিনি পরবর্তী জীবনের পাথেয় করেছিলেন। অর্জিত জ্ঞান ও আদর্শকে পুঁজি করে তিনি সমাজের অন্ধকার দূর করতে আজীবন কাজ করে গেছেন।
তিনি ছিলেন জনগণের প্রকৃত আস্থার প্রতীক। তিনি এলাকার অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন তার সততা ও ন্যায়পরায়ণতা আজও মানুষের মুখে মুখে। বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী সংগঠক। দীর্ঘ ১০ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে সম্প্রতি দলে ফিরে আসায় কর্মীদের মাঝে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তাঁর মৃত্যুতে তা বিষাদে রূপ নিল।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ছিলেন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত এক প্রাণ। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাড়ানোই ছিল তার জীবনের ব্রত। তার এই চিরবিদায় যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নক্ষত্রের পতন।
আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
লেখক: সরকারি কলেজের শিক্ষক, বাঘারপাড়ার বাসিন্দা
লেখাটি লেখকের ফেবু থেকে নেওয়া।