Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

২০৩০-এর মধ্যে সৌরেই লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ :  প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:২৫ পিএম
২০৩০-এর মধ্যে সৌরেই লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ :  প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোল্টাইকসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের একটি মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এ চাহিদা বিবেচনায় আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বাংলাদেশের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোল্টাইকসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যাগ্রিভোল্টাইক হচ্ছে একই জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ কমাতে প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় কাঠামো আমদানিতে কর সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এক শতাংশ করের সুবিধা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য ছয় মাসের বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছাড়
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। ছোট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ছোট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে। আগামী গ্রীষ্মের আগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে জমির খরচ কমাতে সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে তাদের অব্যবহৃত জমির তালিকা দিতে বলেছিলেন। যেসব জমি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে না এবং আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরেও ব্যবহারের সম্ভাবনা কম, সেগুলো চিহ্নিত করতে বলা হয়।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রথমে প্রায় ৬০ হাজার একর জমির তথ্য দেয়। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব জমি বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়ার কাজ করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সরকার জমি দেবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারী সেখানে অর্থ ও প্রযুক্তি নিয়ে আসবেন। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি পদ্ধতিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। জমি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কাছাকাছি বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, জেলাভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উপযোগী জমি ও ছাদের মানচিত্র প্রকাশ করা হবে কি না। তিনি বড় নদীর জলরাশির ওপর ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় সৌর প্রকল্পের জন্য সরকার জমি চিহ্নিত করেছে। তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য আলাদা মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ এখন নেই। তিনি বলেন, সব সরকারি ভবনের ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে চায় সরকার। এসব প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নীতিমালাও করা হয়েছে। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় আরও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বদলে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রামপাল প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে আরও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সুন্দরবনের পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনায় সেখানে নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বদলে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় সুন্দরবনের ক্ষতি নিয়ে আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ অনেকে সে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায়ও ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, মাতারবাড়ীতে কয়লার ছাই রাখার জন্য নির্ধারিত অ্যাশ পন্ডের জায়গা রয়েছে। উৎপাদিত ছাই দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় জায়গার একটি অংশ খালি থাকে। তবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জায়গাটি অ্যাশ পন্ড হিসেবেই রাখতে হবে। অন্য কোনো স্থায়ী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সে কারণে ওই এলাকায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুতের প্রয়োজনও পর্যায়ক্রমে নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান ভবিষ্যতে সরকারি সংস্থাগুলো জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে মেটাক। এ লক্ষ্যেই সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগোচ্ছে। ফেনীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২৩টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সময় প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার সৌরবিদ্যুৎকে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে তরুণদের এ খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত করতে সরকার অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে চায়।

সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বড় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের কয়েকটি দাবি নিয়েও সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে হুইলিং চার্জ ও ক্রস-সাবসিডি চার্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হুইলিং চার্জ হচ্ছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা বিতরণ লাইন ব্যবহার করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য দেওয়া মাশুল। বিনিয়োগকারীরা এসব বিষয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন। সরকার দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকার ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫’, ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫’, ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫’ এবং সরকারি জমিতে পিপিপির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশিকা করেছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেলও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংসদকে জানান তিনি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)