মির্জা ফখরুল ইসলাম, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মঈন খান, নাসিমুল গণি ছবি: ধ্রুব নিউজ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম কৌতূহল ও জোর জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। পদত্যাগের পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সুশীল সমাজের দৃষ্টি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের মতে, সরকারের ভেতর ও বাইরে বহুল আলোচিত নামের তালিকা থাকলেও নতুন রাষ্ট্রপতি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়মে বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন। যেহেতু জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তা প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ ও সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি চলছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো দলীয় ফোরামে বা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি ওঠানো হয়নি, তবে নীতিনির্ধারকরা একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়ে ভাবছেন।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার নাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সুদীর্ঘকাল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা, শত নির্যাতন সহ্য করে দল ধরে রাখা এবং তার সর্বজনগ্রাহ্য ও মডারেট ভাবমূর্তির কারণে দলটির বড় একটি অংশ তাকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান পদে দেখতে চায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও মির্জা ফখরুল ইসলামকে ঘিরে ব্যাপক সমর্থন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংকটকালীন রাজপথের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বঙ্গভবনের জন্য সবচেয়ে মানানসই ও যোগ্য মুখ।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের প্রতিষ্ঠাকালীন ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে। তবে বয়স, শারীরিক প্রতিকূলতা এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে অবস্থান—এসব নানা সমীকরণে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, রাজনীতির বাইরে থেকেও কিছু নাম নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে চর্চা চলছে। অতি সম্প্রতি আলোচনায় যুক্ত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নাম। কিন্তু দলীয় নীতিনির্ধারকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বাইরের কোনো অরাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক ব্যক্তিত্বের চেয়ে দল ও দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য প্রবীণ রাজনীতিবিদকেই বঙ্গভবনে পাঠানো সমীচীন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় সূত্রগুলো অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে এখনো কিছুটা সময় রয়েছে। রাজনীতিতে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলেও যেতে পারে। তা সত্ত্বেও বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে দেশ—এমনটিই এখন রাজনৈতিক সচেতন মহল ও সাধারণ পাঠকদের প্রধান পর্যালোচনার বিষয়।