Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে হাফিজ উদ্দিন

তিনি মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের সরকারের প্রতি তার সমর্থন ছিল

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই,২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
তিনি মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের সরকারের প্রতি তার সমর্থন ছিল

আজ শুক্রবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর জানাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাকে নিয়ে নিজের একটি মূল্যায়ন তুলে ধরলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেলে তার কাছে পদত্যাগপত্রটি এসেছে। সংবিধান অনুযায়ী এখন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের মনোনীত প্রার্থী হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবি উঠলেও তিনি টিকেছিলেন। এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর তিনি পদত্যাগ করলেন; যদিও তাঁর মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি ছিল।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়েছেন জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকারের কাছে দাখিল করেন। রাষ্ট্রপতি লিখিতভাবে তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার যে কারণগুলো দেখিয়েছেন, তা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন।

স্পিকার বলেন, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্পিকার।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

এ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই তিনি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছিলেন। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।

খুব সংক্ষেপেই এই সংবাদ সম্মেলন সারেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্ন থাকলেও তিনি মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কর্মসূচির ইতি টানেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা ধরনের গুজবের বিষয়ের এক প্রশ্নে স্পিকার বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। দেখা গেল যে, এটি প্রকৃত তিনি শারীরিক অসমর্থের কারণে পরিত্যাগ করেছেন। আমি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’

এই প্রশ্নের উত্তরেই মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে নিজের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকেই স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। এর সঙ্গে দেশের ভালো–মন্দও জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝেমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। যিনি যেখানে নিজেই এটি দাবি করেছেন।’

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পদত্যাগের ফলে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কোনো ধরনের বিরূপ মনোভাব কিংবা কনফিউশন যাতে এসব ব্যাপারে না ঘটে ...আগেও রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন কারণে। রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত মাননীয় রাষ্ট্রপতি, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ার কখনো শূন্য থাকে না এবং আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। এটি হলো বাস্তবতা। আশা করি, সব ধরনের কনফিউশন এখন থেকে দূর হয়ে যাবে।’

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)