ধ্রুব নিউজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ছবি: সংগৃহীত
দুই দশক পর এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যাত্রা শুরু করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। তবে প্রথম দিনেই শোক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয়েছে আদর্শিক বিতর্ক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে আনা শোক প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল।
বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপরই সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী আনা হয় শোক প্রস্তাব। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের নামে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
তবে এই তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, এই শোক প্রস্তাবটি একপেশে হয়েছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি—মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং শরীফ ওসমান বিন হাদির নামও এই শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’
একই দাবিতে সোচ্চার হন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের বাইরেও সীমান্তে হত্যার প্রতীক ফেলানী খাতুন এবং বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
অধিবেশনে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আজকে সেই গণতন্ত্রের মা আমাদের মাঝে নেই, যিনি দেশের প্রতিটি সংকটকালে রাজপথে ছিলেন। তিনি আজ বেঁচে থাকলে এবং এই সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। তবে তিনি মানুষের হৃদয়ে গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে অমর থাকবেন।
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং রংপুরের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম তাদের বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ ও দেশপ্রেমের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার প্রথম ভাষণেই এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সংসদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। জনগণ আজ সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা, আপনি পারবেন। আমরা আপনার কাছে কোনো বিশেষ আনুকূল্য চাই না, শুধু ইনসাফ বা জাস্টিস চাই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে সংসদকে প্রাণবন্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। আজকের এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমরা সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে চাই এবং স্পিকারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব।