❒ আনন্দবাজার যা বলছে
ধ্রুব ডেস্ক
ফয়সাল করিম মাসুদ ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান অসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।
এসটিএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে রোববার সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআই’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসটিএফ বলছে, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীররাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বলছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ‘ফেরার উদ্দেশ্যে’ শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় যায়।
এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে এসটিএফ বলছে, রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ফয়সালের আটকের বিষয়ে ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজারে প্রকাশিত নিউজ হুবহু প্রকাশ করা হলো : ‘বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম গ্রেফতার ভারতে। তিনি একা নন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) জালে ধরা পড়েছেন ফয়সালের সহকারী তথা খুনে অন্যতম অভিযুক্ত আলমগীর শেখও। হাদি-খুনে বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে এই দু’জনকে মূল অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করে।
রাজ্য পুলিশের এসটিএফ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দিয়ে বনগাঁর সীমান্ত এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশে তোলাবাজি এবং খুনের ঘটনায় নাম জড়ানো এই দু’জন ওই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে খবর পেয়ে হানা দেওয়া হয়েছিল। সুযোগ পেলেই তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারেন, এমনও জানা গিয়েছিল। সেই খবরের ভিত্তিতে হানা দিয়ে গোপন আস্তানা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, ধৃতেরা হাদিকে ‘খুন’ করে অবৈধ ভাবে মেঘালয়ের সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা বনগাঁয় ফিরে আসেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। তার আগেই গ্রেফতার হলেন দু’জন। এসটিএফ ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছে। আদালতে হাজির করিয়ে তাঁদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সি হাদিকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয় বাংলাদেশের ওই তরুণ নেতার। হাদির মৃত্যু ঘিরে ফের অশান্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। জায়গায় জায়গায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পুলিশ গত ডিসেম্বরে দাবি করে, হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও সেই সময় বাংলাদেশের দাবি উড়িয়ে দিয়েছিল বিএসএফ। মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সাল যে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছিল মেঘালয় পুলিশ। এ বার সেই ফয়সাল গ্রেফতার হল ভারতে।’