ক্রীড়া ডেস্ক
২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ, এমনকি গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের আগেও ইরানি ফুটবলারদের কুরআন প্রথা পালন করতে দেখা গেছে ছবি: সংগৃহীত
ইরানি সংস্কৃতির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি। দেশটির যেকোনো শুভ কাজের সূচনা কিংবা দীর্ঘ সফরের প্রাক্কালে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আবেগঘন পারিবারিক সামাজিক প্রথা বেশ প্রচলিত রয়েছে। এই প্রথাটি মূলত 'কুরআনের নিচ দিয়ে যাওয়া' বা 'পাসিং আন্ডার দ্য কুরআন' নামে সমধিক পরিচিত।
সাধারণত এই নিয়মে পরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ বা মুরুব্বী ব্যক্তি ঘরের সদর দরজায় পবিত্র কুরআন শরিফ উঁচুতে ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর ঘর থেকে বের হওয়া ব্যক্তিটি পরম শ্রদ্ধায় সেই কুরআনের নিচ দিয়ে পার হন, পবিত্র গ্রন্থটি স্পর্শ করেন এবং ভক্তিভরে তাতে চুমু খান। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও সুরক্ষা সফরকারীর সঙ্গে থাকে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের এই আবহমান প্রথাটি ইরানের ক্রীড়াঙ্গনেও সমানভাবে মিশে গেছে। প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেশ ছাড়ার আগে এই ঐতিহ্যবাহী প্রথা পালন করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
এটি অবশ্য কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ, এমনকি গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের আগেও ইরানি ফুটবলারদের একইভাবে এই প্রথা পালন করতে দেখা গেছে। দেশ ছাড়ার আগে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় সারিবদ্ধভাবে মুরুব্বীদের হাত উঁচিয়ে ধরে রাখা পবিত্র কুরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যান, তাতে চুমু খান এবং একটি নিরাপদ ও সফল সফরের দোয়া নিয়ে মাঠের লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নামার এই অসাধারণ দৃশ্যটি বরাবরের মতোই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় কেড়েছে।