বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে খুন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থাপিত তথ্যে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের প্রতিটি সূচকই ঊর্ধ্বমুখী। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সভায় বক্তারা বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ সকাল ১১টায় জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভাটি হয়।

আজ সকাল ১১টায় জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির
মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয় -- ধ্রুব নিউজ
সভার উন্থাপিত অপরাধের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে দ্বিগুণ। মার্চে যেখানে খুনের সংখ্যা ছিল ৩টি, এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও। এপ্রিলে ৮টি ধর্ষণ ও ২৩টি নারী নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা মার্চের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া জেলায় ২ জন মানবপাচারের শিকার হয়েছেন এবং নতুন করে ২টি সিধেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে সভায় উঠে আসে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার একটি ঘটনাও, যা এর আগের মাসে ছিল না।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলার ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এপ্রিলে অস্ত্র আইনে ২টি ও বিস্ফোরক আইনে ১টি মামলা হয়েছে, যা মার্চ মাসে ছিল যথাক্রমে ৫টি ও ৩টি। এছাড়া মাদকের বিস্তৃতি রোধে অভিযান চলমান থাকায় মার্চ মাসের ১১৯টি মামলার তুলনায় এপ্রিলে মাদক মামলার সংখ্যা কিছুটা কমে ১০২টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় সিদ্যধান্শোত হয়, শহরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। তবে ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে একটি ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার বিষয়টি শিথিল থাকলেও বাণিজ্যিক পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যানজট নিরসনে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোনো সড়কেই কোরবানির পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট রোধে মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পশুহাটে জাল টাকা শনাক্ত ও অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। মাদক, ছিনতাই এবং সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে সভায়।
আলোচনা চলাকালে শহরের ফুটপাত থেকে ভাসমান দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে কয়েকজন সদস্য ঈদের আগ পর্যন্ত নমনীয়তা দেখানোর অনুরোধ করেন। তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, এতে সাধারণ মানুষের স্বস্তিতে চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের মেজর মুর্তজা, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।